


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় ৩৫কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকল। তার মধ্যে ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ২০কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। শুরু হয়েছে রুট মার্চ।
মুর্শিদাবাদের দুই পুলিশ জেলাতেই বরাবর ছোটোখাটো গণ্ডগোল থেকে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা দেখা দেয়। খুব তাড়াতাড়ি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কমিশন কোনো বাড়তি ঝুঁকি নিতে চাইছে না। দফায় দফায় যত বাহিনী আসছে, তার থেকে একটা বড়ো অংশ মুর্শিদাবাদ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে। গ্রামগঞ্জে রুট মার্চ শুরু হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার বলেন, ১৭কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আগেই এসেছে। আরও তিন কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এই পুলিশ জেলায় ঢুকছে। আমরা প্রতিটি থানা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ শুরু করেছি।
জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার এসপি হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, এখানে ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে সামশেরগঞ্জে অশান্তির সময় ১২কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছিল। তারা এখনো রয়েছে। প্রতিটি থানা এলাকায় আমরা কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে রুট মার্চ শুরু করেছি।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ থেকেই মুর্শিদাবাদ জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকতে শুরু করে। নির্বাচন ঘোষণা কবে হবে-তার ঠিক নেই, কিন্তু কমিশন পরপর বাহিনী বাড়িয়ে চলায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। বিজেপির দাবি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই কেন্দ্র বাহিনী পাঠাচ্ছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বাংলার মানুষকে আতঙ্কিত করতে চাইছে বিজেপি। তাই কমিশনকে দিয়ে বাহিনী পাঠানো হচ্ছে।
বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, দেশের মানুষ জানে নির্বাচনে বাংলায় কী পরিস্থিতি হয়। সারা দেশে কোথাও এত হিংসা হয় না, যতটা বাংলায় হয়। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা ভোট লুট করে। আগামী নির্বাচনে মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে-সেজন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে।
তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার(ডেভিড) বলেন, কমিশন এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। বাংলার মানুষকে আতঙ্কিত করতে চাইছে। এর আগে কোচবিহারের শীতলকুচিতে সংখ্যালঘুদের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। এবারও বাংলার মানুষকে খুন করতে চাইছে বিজেপি। বাংলায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে, নির্বাচন ঘোষণার আগে এত কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠাতে হবে। বিজেপি দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মানছে না। সরাসরি ভারতের সংবিধানের উপর আঘাত হানছে বিজেপি সরকার। বাংলার মানুষ হিসাব তুলে রাখছে। যতই কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়ে অত্যাচারের চেষ্টা করা হোক না কেন, বিধানসভা নির্বাচনে ইভিএমে মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।