নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ছ’টি থানার প্রায় ৩০জন শ্রমিক ও হকারকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটকে রেখেছে ওড়িশা সরকার। তাঁরা পটাশপুর, ভগবানপুর, ময়না, পাঁশকুড়া, কোলাঘাট ও তমলুক থানা এলাকার বাসিন্দা। ওইসব থানা থেকে অনেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে ওড়িশায় গিয়েছিলেন। অনেকে বেডশিট, মশারি ও মাদুর ফেরি করতেন। নিজেদের কাছে ভোটার এবং আধার কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁরা বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি সন্দেহে আটকে রাখা হয়েছে। আটক করা এরাজ্যের বাসিন্দাদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। ঘটনায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন। গত ২৩ ও ২৪জুন থেকে আটকে রাখা হচ্ছে। এনিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের অন্দরে হইচই পড়ে গিয়েছে।
ময়না থানার গোকুলনগর পঞ্চায়েতের বসন্তচক গ্রামের সাতজন ওড়িশার কটক ও খুড়দা জেলায় মশারি ও বেডশিট ফেরি করতেন। ১০-১৫বছর ধরে সেখানে ফেরি করেন বসন্তচক গ্রামের আবু তালহা, শেখ মইদুল, ইন্তাজ আলি, মহসিন মল্লিক, শেখ জইদুল, শেখ সাদ্দাম ও শেখ ইসমাইল। আচমকা তাঁদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হয় ওড়িশা সরকারের। তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে। ময়না থানার পুলিস ই-মেল করে তাঁরা এরাজ্যের বাসিন্দা বলে ওড়িশা সরকারের সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট পাঠিয়েছে। কিন্তু, ব্লক প্রশাসনের রিপোর্ট এখনও না যাওয়ায় তাঁদের আটকে থাকতে হয়েছে।
কোলাঘাট থানার সাগরবাড় গ্রামের চারজন, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের একজন, পাঁশকুড়া থানার তিনজনকে ওড়িশায় আটকে রাখা হয়েছে। এছাড়াও ২৪জুন ভগবানপুর-১ ব্লকের কোটবাড় গ্রামের শেখ সাপু, শেখ সাহেন, শেখ সাবুল ও মতিবুল মহম্মদকে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁরা রাস্তায় ঘুরে মাথার চুল কিনতেন। পটাশপুর থানা এলাকার বেশ কয়েকজনকে আটকে রাখা হয়েছে। এভাবে পূর্ব মেদিনীপুরের প্রায় ৩০জনকে ওড়িশায় আটকে রাখা হয়েছে। প্রতিটি থানা থেকে তাঁদের নথিপত্র যাচাই করে ওড়িশা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ব্লক প্রশাসন থেকেও এনিয়ে রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
বাংলাদেশি সন্দেহে ঘরের ছেলেদের আটকে রাখার খবর ময়নার বসন্তচক গ্রামে আসতেই বাড়ির লোকজন দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। আটক বাসিন্দাদের উদ্ধারের জন্য পরিবারের লোকজন স্থানীয় পঞ্চায়েতের সদস্যা এবং গোকুলনগর পঞ্চায়েতের প্রধান পাপিয়া পাইকের কাছে ছুটে যান। পঞ্চায়েতের পরামর্শে তাঁরা থানা এবং বিডিও অফিসে আবেদন করেছেন। আবু তালহার দাদা মহম্মদ মহসিন লায়েক বলেন, আটক সাতজনের মধ্যে আমার ভাই ও দুই খুড়তুতো ভাই রয়েছে। ওরা ১০-১৫বছর ধরে মশারি ও বেডশিট ফেরি করছে। প্রত্যেকের কাছে ভোটার ও আধার কার্ড থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি সন্দেহে আটকে রাখা হয়েছে। ভগবানপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অরূপসুন্দর পণ্ডা বলেন, আমাদের ব্লকের চারজনকে আটকে রাখা হয়েছে। ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পাঠানোর পরও ছাড়া হয়নি। ময়নার বিডিও সমীরকুমার পান বলেন, গোকুলনগর পঞ্চায়েত এলাকার সাতজনকে আটকে রাখা হয়েছে। থানার ভেরিফকেশন রিপোর্ট চলে গিয়েছে। ব্লকের রিপোর্ট পাঠাতে বাকি আছে। দ্রুত পাঠানো হবে। জেলার পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের কাছে যেভাবে রিপোর্ট আসছে আমরা ভেরিফিকেশন করে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিচ্ছি। তমলুক মহকুমার এলাকার ১৭জনকে আটকে রাখা হয়েছে। এছাড়াও পটাশপুর ও ভগবানপুর থানা এলাকার কয়েকজন আছেন। অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) সৌভিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ওড়িশায় আটকে রাখার বিষয়ে যাঁদের নাম আসছে তাঁদের আধার, ভোটার প্রভৃতি ভেরিফিকেশন করে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে।