নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণের ঠিক দু’মাসের মাথায় শিবির বদল শুরু হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার প্রাক্তন জোড়াফুলের তিনজন সাংসদ—সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক বিজেপিতে যোগ দিলেন। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভার টিকিটও হাতে পেলেন। এনিয়ে দলের টিকিট-প্রত্যাশী আদি নেতারা চরম ক্ষুব্ধ। এদিন সল্টলেক বিজেপি কার্যালয়ে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন সংসদের উচ্চকক্ষ থেকে ইস্তফা দেওয়া এই ত্রয়ী। এই যোগদান পর্বকে ‘ব্যতিক্রমী’ ঘটনা বলে উল্লখ করেন শমীকবাবু। তবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের যোগদান করানোর বিষয়ে যে নীতি তাঁদের ছিল, তা থেকে কোনো মতেই ‘বিচ্যুতি’ নয়। তিনি স্পষ্ট বলেন, তৃণমূলে থেকে যাঁরা দুর্নীতি করেননি, তাঁদের আগেই পাশে চেয়েছে বিজেপি। এই তিনজনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় পাঠাবে বিজেপি? জল্পনা জিইয়ে রেখে শমীকের সংক্ষিপ্ত জবাব, চর্চা চলুক না।
বিজেপির তৃণমূলীকরণ হতে দেওয়া হবে না। বিধানসভা ভোটে জয়ের পর শমীক ভট্টাচার্যের এই আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য পার্টির কর্মী-সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল। কিন্তু এদিনের দলবদল ঘিরে ফের শঙ্কার মেঘ ঘনাচ্ছে ‘পদ্ম অক্ষে’। এদিনের যোগদানকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শমীকবাবু বলেন, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের জন্য দরজা বন্ধ, সে-কথা আগে বলেছিলাম, এখনও বলছি। আজকের যোগদান ব্যতিক্রমী ঘটনা, কোনো বিচ্যুতি নয়। বিজেপির রাজ্যসভার এই এমপি আরও বলেন, তৃণমূলের যাঁরা দুর্নীতি করেননি, মানুষের উপরে অত্যাচার করেননি, চাকরি বিক্রি করেননি, মানুষের অধিকার কেড়ে নেননি, তাঁদের কাছে আমাদের আহ্বান ছিল, আপনারা এগিয়ে আসুন, তৃণমূলকে সরিয়ে দিন। তাঁরা আমাদের ডাকে
সাড়া দিয়েছেন। শমীক এখানেই থামেননি। আরও একধাপ এগিয়ে তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, সেরকম যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের তো আমরা আগেই পাশে চেয়েছিলাম। সুতরাং তাঁদেরকে দলে স্বাগত জানানোর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। সুস্মিতা দেবের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে একথা কেউ বলতে পারবেন না যে, তিনি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই ধরনের অবিশ্বাস্য দুর্নীতি যে হতে পারে, সেটা আমি তৃণমূলে এসে কাছ থেকে দেখেছি। আমার সমালোচকেরা বলতে পারেন যে, আমার অনেক কিছু নেতিবাচক দিক আছে। কিন্তু কেউ বলতে পারবেন না যে, আমি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থেকেছি। দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলকে একহাত নিয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়।