নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: থিম তৈরির ভাবনায় এবছর শহরকে টেক্কা দিচ্ছে হাওড়ার গ্রামীণ এলাকা। জগৎবল্লভপুর সাঁকরাইল ও ডোমজুড়, এই তিন ব্লকের তিনটি বড় ক্লাবের পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে উঠেছে। বাংলা ভাষার উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ ফুটে উঠছে ডোমজুড়ের পুজোয়। দেবী চণ্ডীর নানা রূপ ধরা পড়বে বড়গাছিয়ার পুজোয়। মালদার চাঁচল রাজবাড়িকে এ বছর আন্দুলেই দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা।
সাম্প্রতিক সময় দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষীদের উপর অত্যাচারের ঘটনা বারবার শিরোনামে আসছে। বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাঙালিকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠছে। এ অপমানের বিরোধিতা করে গর্জে উঠেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান সময়ের এই জ্বলতে থাকা অধ্যায়কে পুজো ভাবনায় ফুটিয়ে তুলছে ডোমজুড়ের মর্নিংস্টার ক্লাব কমিটি। ১৮তম বছর তাদের পুজোর। এবার থিম, ‘আমার মায়ের ভাষা, আ মরি বাংলা ভাষা।’ মণ্ডপের ভিতর থাকবে বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রেনেসাঁর সময়কালীন পথিকৃৎদের মূর্তি। রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, রামমোহন, বিদ্যাসাগরের বাণীও ফুটে উঠবে মণ্ডপসজ্জায়। ওয়াল আর্টে ফুটিয়ে তোলা হবে ভিন রাজ্যে ঘটা বাঙালিদের উপর অত্যাচারের কথা। থাকবে গীতাঞ্জলি সহ বাংলার বিখ্যাত কিছু গ্রন্থের সঙ্গে সেলফি তোলার ব্যবস্থা। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একচালায় ডাকের সাজের প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। পুজোর বাজেট প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। ক্লাব কমিটির তরফে মলয় ঘোষ, সুদীপ্ত কোলে বলেন, ‘বাংলা ভাষার প্রতি অপমানের বিরুদ্ধে বাঙালিকেই গর্জে উঠতে হবে। আমাদের মনীষীদের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে সবাইকে। পুজোর থিমের মধ্য দিয়ে এটাই প্রতিবাদের ভাষা।’
বড়গাছিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো ৩৫তম বছরে পা দিয়েছে। দেবীকে এখানে ‘চণ্ডীকা’ হিসেবে থাকছেন। মণ্ডপে চণ্ডীর বড় আসন। ত্রিশূল ও অন্যান্য অস্ত্র। দেবীর রূপ রণংদেহী। মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হবে চণ্ডীর ন’টি রূপ। দেওয়ালে লেখা দেবীর ১০৮ নাম, নানা শ্লোক। বিশেষ আকর্ষণ মূর্তির সামনে চক্রাকারে ঘুরবে প্রদীপের আলো। পুজো কমিটির তরফে সায়ন গোলুই, তাপস সামন্ত বলেন, ‘এবছর আমাদের পুজোর বাজেট প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা। দর্শনার্থীরা মণ্ডপের ভিতরে ঢুকলে আধ্যাত্মিক পরিবেশ পাবেন।’ অন্যদিকে বিখ্যাত চাঁচল রাজবাড়িকে আন্দুলে ফিরিয়ে আনছে কামরাঙ্গু তরুণ সংঘ। তাদের পুজো ৬৫ বছরে পড়ল। মণ্ডপ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ফাইবার, বাঁশ ও কাঠ। রাজবাড়ির মতো হুবহু থাকবে নাটমন্দির, ঠাকুরদালান। পুজোর বাজেট প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। ক্লাবের সহ-সম্পাদক সৌরভ মাল বলেন, ‘মণ্ডপের বিশেষ আকর্ষণ রাজবাড়ির ঝাড়বাতি। মাতৃ প্রতিমাতেও জমিদারি ঘরানার শৈল্পিক কারুকাজ ফুটে উঠবে।’