Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জামবনীর গিধনি বাজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ২৫৭টি দোকান, পুনর্বাসনের দাবি

ঝাড়গ্রামের গিধনি বাজারে ২৫৭টি দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

জামবনীর গিধনি বাজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ২৫৭টি দোকান, পুনর্বাসনের দাবি
  • ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে বুলডোজার অ্যাকশন। লোধাশুলি ও গুপ্তমণি এলাকায় শতাধিক দোকান ভাঙা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জামবনী ব্লকের গিধনি বাজার এলাকায় ২৫৭টি দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রবল বৃষ্টির জেরে দোকানরা তাঁদের জিনিসপত্রও সরানোর সময় পাননি। দিশেহারা ব্যবসায়ীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে দোকানের জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। শুক্রবার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি তোলেন।

Advertisement

গিধনি বাজারের রেল ও পূর্ত দপ্তরের জায়গায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ ২০ থেকে ৩০বছর ধরে ব্যবসা করছিলেন। মে মাসের ৩তারিখে রেলকর্তৃপক্ষের তরফে নোটিস পাঠানো হয়। ব্যবসায়ীরা নোটিস পেয়ে বর্ষাকাল না পার হওয়া পর্যন্ত দোকানগুলি না ভাঙার আবেদন জানান। কিন্তু, রেল কর্তৃপক্ষ সে কথায় কান দেয়নি। 
জামবনী শুখাসুখা এলাকা। বর্ষার সময়েই একবার চাষাবাদ হয়। বছরের বাকি সময়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দিনমজুরি ও ছোটোখাটো ব্যবসা করে সংসার চালান। গিধনি বাজার সংলগ্ন রেল ও পূর্ত দপ্তরের জায়গায় ছিল কারোর চা, মুড়ি ঘুঘনির দোকান, কারোর সেলুন, পান গুমটি, সাইকেল সারানোর দোকান।  ৯জুলাইয়ের মধ্যে দোকানের জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিশাল পুলিস বাহিনী নামানো হয়।‌ বুলডোজার চালিয়ে একের পর এক দোকান ভেঙে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়। লাগাতার বৃষ্টির জেরে অনেকেই দোকানের জিনিসপত্র সরাতে পারেননি। শুক্রবার সকালে দেখা যায়, দোকানদাররা ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকেই জিনিসপত্র বের করার চেষ্টা করছেন। 
ব্যবসায়ী মনসা রাম মাহাত বলেন, পানের গুমটি ছিল। গত ১৫ বছর ধরে এখানেই ব্যবসা করছি। স্ত্রী মারা গিয়েছে। বাড়িতে বৃদ্ধা মা ও ছোটো দুই সন্তান রয়েছে। দোকান ভেঙে দেওয়ায় রোজগারহীন হয়ে পড়েছি। রবীন্দ্রনাথ মাহাত বলেন, বৃহস্পতিবার এসে বলল জিনিসপত্র সরিয়ে নাও। বৃষ্টির জন্য জিনিসপত্র সরাতে সময় লাগছিল। মালপত্র সরানোর আগেই সব ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল। সাত্যকি মাহাত বলেন, আমার সাইকেল সারানোর দোকান ছিল। চোখের সামনে তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল। আমাদের এখানে সেভাবে চাষাবাদ হয় না। দিনমজুরির কাজও মেলে না। সরকার আমাদের অন্য জায়গায় ব্যবসা করার সুযোগ করে দিক। গিধনি বাজার কমিটির সদস্য রাজু মাণ্ডি বলেন, রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বর্ষার মধ্যে দোকান না ভাঙার আবেদন করেছিলাম। এই সময় আমাদের নানা পরব চলছে। বৃহস্পতিবার রেল কর্তারা এসে দোকানের জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। আমাদের কাতর আবেদনেও সাড়া দেননি। 
সিটুর জেলা সভাপতি হেনা সৎপতি বলেন, রেল ও পূর্ত দপ্তরের জমিতে ২৫৭টি দোকান ছিল। সারাদিন একশো থেকে দু'শো টাকা রোজগার হয়। সামান্য রোজগারে কষ্ট করে এদের সংসার চলে। সংগঠনের তরফে আমরা অর্থিক ক্ষতিপূরণের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছি।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ