Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ছত্তিশগড়ে সূতি ও সামশেরগঞ্জের ২৩ পরিযায়ী শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে গ্রেপ্তার

পেটের তাগিদে ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে চরম বিপাকের মুখে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকরা

ছত্তিশগড়ে সূতি ও সামশেরগঞ্জের ২৩ পরিযায়ী শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে গ্রেপ্তার
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: পেটের তাগিদে ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে চরম বিপাকের মুখে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকরা। বাংলাদেশি সন্দেহে এবার ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরে সূতি ও সামশেরগঞ্জের ২৩ জন পরিযায়ী শ্রমিককে গ্রেপ্তার করল স্থানীয় পুলিশ। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিলাসপুরের একটি স্থানীয় থানার পুলিশ ওই ২৩ জন শ্রমিককে আচমকাই ডেকে পাঠায়। থানায় হাজির হওয়ার পর তাঁদের আঁটকে রাখা হয় এবং পরবর্তীকালে নিয়ে গিয়ে রায়পুরের ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি করা হয়। রবিবার, দুপুরে বিলাসপুর জেলা আদালতে তাঁদের তোলে পুলিশ। হঠাৎই কেন তাঁদের এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হল, তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সূতি ও সামশেরগঞ্জে। এনিয়ে জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, অন্যান্য রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের প্রতি এই ধরনের মনোভাব অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সামান্য কাজের খোঁজে গিয়ে প্রতিনিয়ত তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ দেগে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আমি পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি। জানা গিয়েছে, সামশেরগঞ্জ থানার ধানঘরার বাসিন্দা মোস্তাকিন শেখ তাঁর ভাই সাবির শেখ এবং সূতি থানার হাড়োয়ার বাসিন্দা শ্যালক লাল্টু শেখ দুই মাস আগে বিলাসপুরে যান। সেখানে আগে থেকেই আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক বাস করছিলেন। তাঁরা মূলত হাঁড়ি, বাসনপত্র এবং বিভিন্ন ঘরোয়া জিনিসপত্র নিয়ে এলাকায় ফেরি করে বেরাতেন। শুক্রবার আচমকাই পুলিশ তাঁদের ডেকে নিয়ে গিয়ে সোজা গ্রেপ্তার দেখায়। দূরভাষে এই আশঙ্কাজনক খবর পেতেই দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েন ওই হকারদের পরিবারগুলি। কীভাবে ঘরের লোক ঘরে ফিরবেন, তা নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটছে তাঁদের। ইতিমধ্যেই স্বজনহারা পরিবারগুলি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকত্বের যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়ে তাঁদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা। মোস্তাকিন শেখের ছেলে আরিফ শেখ বলেন, বাবা দীর্ঘদিন ধরে বিলাসপুরে হকারি করেন। নিয়ম মেনে ছত্তিশগড়ে পৌঁছানোর পরেই সেখানকার স্থানীয় থানায় সব কাগজপত্র জমা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তারপরও তাঁদের জোর করে বাংলাদেশি বলে গ্রেপ্তার করা হল। আমরা এদেশেরই বাসিন্দা, আমাদের কাছে সব বৈধ প্রমাণ রয়েছে। এনিয়ে খলিলুর সাহেব আরও বলেন, সব পরিযায়ী শ্রমিক, হকারদের সুবিধার্থে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিচয়পত্র প্রদানের আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছি।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ