Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

পাহাড়ি ঢালের গহ্বরে জমে থাকা বরফ গলে নেমে এসেছিল দানবীয় জলধারা, উত্তরকাশী বিপর্যয়ের কারণ জানাল ইসরো

২০২৫ সালের ৫ আগস্ট। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে আচমকা নেমে আসে দানবীয় জলধারা। সঙ্গে কাদামাটি, বরফ আর বোল্ডারের স্রোত। তার নীচে চাপা পড়ে উত্তরকাশীর পাহাড়ি গ্রাম ধারালি।

পাহাড়ি ঢালের গহ্বরে জমে থাকা বরফ গলে নেমে এসেছিল দানবীয় জলধারা, উত্তরকাশী বিপর্যয়ের কারণ জানাল ইসরো
  • ৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে আচমকা নেমে আসে দানবীয় জলধারা। সঙ্গে কাদামাটি, বরফ আর বোল্ডারের স্রোত। তার নীচে চাপা পড়ে উত্তরকাশীর পাহাড়ি গ্রাম ধারালি। ঘর-বাড়ি, রেস্তরাঁ, হোটেল— নিমেষে সব শেষ। সেইসঙ্গে অসংখ্য প্রাণহানি। কিন্তু, উত্তরকাশীর সেই বিপর্যয় ঠিক কী কারণে? মেঘভাঙা বৃষ্টি, হিমবাহের হ্রদের পাড় ভেঙে পড়া, নাকি অতিবর্ষণ? প্রাথমিকভাবে এই তিনটি ফ্যাক্টরই চর্চায় ছিল। কিন্তু, বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে ইসরোর বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে ধারালি বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ। এক্ষেত্রে বিপর্যয়ের নেপথ্যে অন্য কারণের হদিশ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, পাহাড়ের ঢালে একটি বিশাল গর্তে জমে থাকা উন্মুক্ত বরফের চাদর আচমকা ভেঙে ওই মারণ জলধারা নেমে এসেছিল সেদিন। উষ্ণায়নের কারণে হিমালয়ের বুকে এটি এক নয়া বিপদ বলেই মনে করছেন ইসরোর গবেষকেরা।

Advertisement

ধারালির ওই ঘটনার পরপরই সম্ভাব্য যেসব কারণ নিয়ে চর্চা চলছিল, সেগুলির সাধারণ পরিচিত চরিত্রের সঙ্গে বিপর্যয়ের প্রকৃতি মিলছিল না। ইসরোর বিজ্ঞানীরা আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড থেকে ওই আঞ্চলের বেশ কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খতিয়ে দেখেন। তাঁরা জানতে পারেন, ধারালি ও তার আশপাশের অঞ্চলে সেই সময় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছিল। মেঘভাঙা বৃষ্টির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবার স্যাটেলাইট চিত্রের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেও ধারালির উপরের দিকে ওই পাহাড়ি অঞ্চলে কোনো হিমবাহ হ্রদের সন্ধানও তাঁরা পাননি। ফলে সেই কারণে বিপর্যয়ের প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তাহলে কারণ কী? রহস্যের সমাধানে তদন্তে নামেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। হাই-রেজল্যুশন স্যাটেলাইট চিত্র, ডিজিটাল এলিভেশন মডেল ও গ্রামবাসীদের তোলা সেদিনের ভিডিও বিশ্লেষণ করেন তাঁরা। ইসরোর টিম দেখতে পায়, ওই বিশাল জলধারার উৎস লুকিয়ে রয়েছে ৫ হাজার ২০০ মিটার উপরে অতি খাড়া পাহাড়ি ঢালে। সেখানে একটি বিশাল গর্তে জমে থাকা বরফ গলে গিয়ে সেই বিপত্তি ঘটিয়েছিল। হিমবাহের মতো বিশাল না হলেও সাধারণত এরকম গর্তে বছরের পর বছর বরফ জমে থাকতে পারে। বিপর্যয়ের আগে পর্যন্ত ধারালির উপরের দিকে ওই বরফ ভর্তি গহ্বরের অস্তিত্ব অজানাই ছিল। 

সম্পর্কিত সংবাদ