


বাবুল সরকার, কুমারগ্রাম: এক-দুই বছর নয়, দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে ২০ বছর। ঘরের ছেলে ফেরেনি। তাই ভোট এলেই মনটা কেঁদে ওঠে কুমারগ্রাম ব্লকের খোয়ারডাঙা-১ পঞ্চায়েতের উত্তর নারারথলির মাহাত পরিবারের সদস্যদের। ছেলে ঘরে ফিরবে কি না, তা জানেন না ধীরেন্দ্র মাহাত ও তাঁর স্ত্রী থানেশ্বরী মাহাত। দাদার কথা ভাবলেই আজও মন ভারাক্রান্ত হয়ে যায় ছোট ভাই মৃত্যুঞ্জয় মাহাতর। তাই ভোট এলেই যখন রাজনৈতিক দলগুলির কার্যকলাপ বেড়ে যায়, গণতন্ত্রের উৎসবে মেতে ওঠেন সর্বস্তরের মানুষ, ঠিক তখন বুকের ভিতরে লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণাটা বেড়ে যায় মাহাত পরিবারের সদস্যদের।
ঠিক কী হয়েছিল ২০ বছর আগে? উত্তর নারারথলি গ্রামের বাসিন্দা ধনঞ্জয় ২০০৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে একটি ছোট গাড়ির চালক হিসেবে পুরুলিয়ায় গিয়েছিলেন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা জানান, ধনঞ্জয় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। ধনঞ্জয়ের সঙ্গে থাকা গাড়িটিরও আজ পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি। পরিবারের তরফে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে লিখিতভাবে জানানো হয় বেশ কয়েকবার। কিন্তু নিখোঁজের কোনো সন্ধান পাননি তাঁরা।
২০০৬ সালে নির্বাচনের কাজে ধনঞ্জয়বাবু প্রথমে আলিপুরদুয়ার গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে অসমের ঢালিগাঁও পাঠানো হয়। ঢালিগাঁও থেকে গাড়িতে করে বিএসএফের ১২ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কমান্ডান্ট ও অন্যান্য জওয়ানকে নিয়ে তিনি পুরুলিয়ায় যান। জওয়ানদের নামিয়ে দেওয়ার পর পুরুলিয়ার ঝালদা এলাকা থেকে গাড়িতে পেট্রল ভরে তিনি আলিপুরদুয়ারের দিকে রওনা হন। এরপর ধনঞ্জয়ের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। গাড়িটিরও খোঁজ মেলেনি। ঘটনার ২০ বছর অতিক্রান্ত। ধনঞ্জয়ের কোনো খবর না মেলায় স্বভাবতই উদ্বিগ্ন তাঁর পরিবারের লোকজন। ঘরের ছেলের ফেরার অপেক্ষায় বসে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ভোট এলেই মনটা কেঁদে ওঠে উত্তর নারারথলির বাসিন্দা ধীরেন্দ্র মাহাত ও তাঁর স্ত্রী থানেশ্বরী মাহাতর।
বাবা ধীরেন্দ্র বলেন, অনেক চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোনো সুরাহা মেলেনি। শুধু এটুকুই চাই, ছেলে ফিরে আসুক।
নিখোঁজের ভাই মৃত্যুঞ্জয় বলেন, এতো বছর কেটে গেল দাদা নিখোঁজ। অথচ, দাদার বিষয়ে আমরা কোনো সঠিক তথ্য জানতে পারছি না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হোক।
কুমারগ্রামের বিডিও সন্দীপ ধাড়া বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজখবর নিয়ে দেখব। • ধনঞ্জয় মাহাত।