বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: মণিপুরে মৃত্যুমিছিল চলছেই। গত বুধবার সশস্ত্র কুকি গোষ্ঠীর হাতে অপহৃত ৬ নাগা পণবন্দির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। একদিন পরে, বৃহস্পতিবার কামজং জেলায় জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারালেন কুকি সম্প্রদায়ভুক্ত দু’জন। জঙ্গিরা বেশ কয়েকটি বাড়িঘরও জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে খবর। কাংপোকপি জেলায় ৬ জন নাগা নাগরিকের মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মণিপুর। সেই আগুনে ঘি ঢেলেছে এদিনের জঙ্গি হামলার ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ কুলতুহ কুকি নামে একটি গ্রামে হামলা চালায় জঙ্গিরা। প্রাণ হারান দু’জন। পাশাপাশি, মায়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ৩০টি বাড়িঘরও পুড়িয়ে দেয় জঙ্গিরা। এই ঘটনার পরেই গোটা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল ও বিভিন্ন নাগা নাগরিক সমাজ সংগঠন ‘মানবিক কারণে’ ১৪ জন কুকি নাগরিককে মুক্তি দিয়েছিল। ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলের সভাপতি এনজি লোহরো অপহৃত ছয় নাগা পণবন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। কিন্তু বুধবার কাংপোকপি জেলার খারাম ভাইফেই গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় ওই ছ’জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। জানা গিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে পুলিশ, সিআরপিএফ ও অসম রাইফেলসের সাড়ে চারশো জওয়ানের যৌথ বাহিনী তল্লাশি শুরু করেছিল। সঙ্গে ছিল স্নিফার ডগ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল। সেই তল্লাশি চলাকালীন বিকালে ওই ৬ নাগা পণবন্দির দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে পাঠানো হয়েছে।



