নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: থানার পর এবার গোয়েন্দা বিভাগের ওসি পর্যায়ের রদবদল ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে লালবাজারে। কারণ, ইডির হাতে জমি দখলের মামলায় ধৃত ওয়েলফেয়ারের শীর্ষনেতা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ দুই ইনস্পেক্টরকে অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াড এবং অ্যান্টি চিটিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখার ওসি হিসেবে নিয়োগ করেছেন কলকাতার অ্যাডিশনাল কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল।
শনিবার এই রদবদল করা হয়েছে। যাকে কেন্দ্র করেই গোয়েন্দা বিভাগের অন্দরে এই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, কলকাতার অ্যাডিশনাল কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল কার্যত শান্তুনু সিনহা বিশ্বাসের ছায়াসঙ্গী হিসেবি পরিচিত সত্যজিত কর্মকারকে অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াডের ওসি নিয়োগ করেছেন। উল্লেখ্য, এই সত্যজিত কর্মকারই দীর্ঘদিন শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ছত্রছায়ায় কালীঘাট থানার ওসি ছিলেন। ভোটের মুখে তাঁকে নির্বাচন কমিশন সরিয়ে দেয়। তারপর থেকে তিনি লালবাজারে গুন্ডাদমন শাখার ওসি ছিলেন। আবার অপেক্ষাকৃত জুনিয়ার ২০০৪ ব্যাচের সদ্য অপসারিত পোস্তা থানার ওসি জয়ঙ্কবিকাশ মিদ্যাকে গোয়েন্দা বিভাগের অ্যান্টি চিটিং শাখার ওসি করা হয়েছে। মূলত এই দুটি নিয়োগ ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে বাহিনীর অন্দরে। গোয়েন্দা বিভাগের বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, ‘তৃণমূল আমলে গত ১৫ বছরে যারা দিনের পর দিন কলকাতা পুলিশে ছড়ি ঘুরিয়েছে, তারাই কীভাবে বিজেপি সরকারের সময়েও ভালো পোস্টিং পাচ্ছেন?’ অথচ, লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের সিনিয়র অফিসার দিনের পর দিন সাইড লাইনে পড়ে আছেন। তবে কি কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তাদের কেউ ভুল তথ্য দিয়ে বারবার বিপথে চালিত করছেন? এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে কলকাতা পুলিশের সিপি অজয় নন্দাকে হোয়াটস অ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও রাত পর্যন্ত তার উত্তর আসেনি।