Bartaman Logo
২১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতা পুলিশে ১৮ কোটির দুর্নীতি, ভোট ও গণনার দিনই অকেজো ওয়্যারলেস

কলকাতা পুলিশের ১৮ কোটি টাকার দুর্নীতি ফাঁস, ভোটের দিনে ওয়্যারলেস সিস্টেম অকেজো হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানুন।

কলকাতা পুলিশে ১৮ কোটির দুর্নীতি, ভোট ও গণনার দিনই অকেজো ওয়্যারলেস
  • ২১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দেবাঞ্জন দাস, কলকাতা: লক্ষ্য ছিল, ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করা। সেই কারণেই দিল্লির একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে কলকাতা পুলিশ। ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চালু করা হয় ‘লং টার্ম ইভোলিউশন (এলটিই) কমিউনিকেশন সিস্টেম’। কিন্তু মহার্ঘ সেই ব্যবস্থাই যখন তখন মুখ থুবড়ে পড়ছে। পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হয়েছিল সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচন পর্বে। বিশেষ করে ভোটগ্রহণ এবং গণনার দিন পুরোপুরি বিকল হয়ে যায় সেই ওয়‌্যারলেস নেটওয়ার্ক। রাজ্যে পালাবদলের পরও সেই বিপর্যয় থামেনি। একের পর এক বিপর্যয়ের জেরে কলকাতা পুলিশের অডিট উইংয়ের তরফে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে বিভাগীয় ‘ছানবিন’ শুরু হয়। তাতেই মিলেছে নয়া দুর্নীতির হদিশ। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ‘কাটমানি’র কাহিনিও সামনে এসেছে। ওয়্যারলেস ব্রাঞ্চের দুই শীর্ষকর্তা, একজন ওসি এবং ওয়্যার঩লেস সুপারভাইজার পদমর্যাদার কয়েকজন পুলিশকর্মীর ভূমিকা এখন সিটের স্ক্যানারে। গোটা বিষয়টি নিয়ে লালবাজারে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন পুলিশকর্মীদের একাংশ।

Advertisement

জানা গিয়েছে, এর আগে কলকাতা পুলিশ অভ্যন্তরীণ ওয়্যারলেস যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করত ভেরি হাইফ্রিকোয়েন্সি (ভিএইচএফ) স্ট্যাটিক এবং ম্যানপ্যাক ওয়্যারলেস সেট। যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার জন্য দিল্লির একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা জার্মানির একটি কোম্পানির তৈরি শক্তিশালী সার্ভার ব্যবহার করে লালবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও দৃঢ় করার কাজ শুরু করে। চালু করা হয় এলটিই স্ট্যাটিক এবং ম্যানপ্যাক কমিউনিকেশন। কিন্তু কোটি কোটি টাকার সেই ব্যবস্থা প্রথমবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ভরা ইডেনে আইপিএলের ম্যাচ চলাকালীন। তখনও অবশ্য বিপদ আঁচ করা যায়নি। কলকাতায় ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকেই বারবার বিঘ্নিত হচ্ছিল সেই ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক। কিন্তু গত ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিন তা সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউটের কবলে পড়ে। হঠাৎ করে ওয়াকি-টকি অচল হয়ে পড়ায় সেদিন মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছিল পুলিশকর্মীদের। তড়িঘড়ি দিল্লির সংস্থাটিকে শো-কজ করা হয়। জবাবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশ্বাস মেলে। কিন্তু গত ৪ মে, ভোটের ফলপ্রকাশের দিনে ফের বিপত্তি! পুলিশকর্মীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে পারছিলেন না। প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল। এরপরও বেশ কয়েকবার সার্ভার ডাউন হয়েছে এলটিই কমিউনিকেশন সিস্টেমের। সর্বশেষ গত ৮ জুন ফের রাত পৌনে ৮টা থেকে ফের আধঘণ্টার জন্য অকেজো হয়ে যায় এই কমিউনিকেশন সিস্টেম। একের পর এক এই এই ঘটনার পর দাবি উঠেছে, দিল্লির ওই সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করে সরকারি তহবিলের ১৮ কোটি টাকা উদ্ধার করার। পাশাপাশি এই কাটমানি চক্রে কারা কারা যুক্ত, তাও খুঁজে বের করা হোক।  
এই পরিস্থিতিতে আজ কলকাতায় ‘যোগদিবস’ পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে বিপত্তি এড়াতে লালবাজারের তরফে ফের পুরানো ভিএইচএফ কমিউনিকেশন সিস্টেম চালু করা হয়েছে শুক্রবার থেকেই। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে দিল্লির ওই সংস্থাকে প্রযুক্তিগত সাহায্য দিতেও বলা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ