সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: কন্টেনারে লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা চলছিল গাঁজা। বুধবার সন্ধ্যায় ফরাক্কার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে নাকা চেক পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে গাঁজা সহ এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত মিঠুন দলুই। ধৃতের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘি থানা এলাকায়। ওই কন্টেনারটি বহরমপুরের অভিমুখে যাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। ধৃত যুবক কোথা থেকে সেগুলো আমদানি করেছে ও ঠিক কার কাছে হাতবদলের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। ধৃত যুবককে হেপাজতে নিয়ে জেরা করবে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতকে বহরমপুর জেলা আদালতে তোলা হলে ৭ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ফরাক্কার এসডিপিও শেখ সামশুদ্দিন বলেন, আগাম খবরের ভিত্তিতে নাকা পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়ে ১৮৬ কিলো গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়। গাড়ির চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত যুবককে আরও জেরা করা হবে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, এদিন সন্ধ্যায় ফরাক্কার দিক থেকে আসা ছয় চাকার একটি কন্টেনার গাড়ি আটক করে পুলিশ। কন্টেনারটিতে অন্যান্য সামগ্রী বোঝাই করা ছিল। সে সব সামগ্রী সরাতেই কয়েকটি প্লাস্টিকের বস্তা নজরে আসে পুলিশের। ওই বস্তায় রুলের গুঁতো দিতেই সন্দেহ জাগে পুলিশের। বস্তা কাটতেই তা থেকে গাঁজা বেরিয়ে আসে। কন্টেনারে এমন ১২টি গাঁজার বস্তা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। সবকটি বস্তায় গাঁজা ভরা ছিল। সবমিলিয়ে বস্তাগুলি থেকে মোট ১৬৮ কিলো গাঁজা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পুলিশের নজর থেকে বাঁচতেই গাড়িতে অন্যান্য সামগ্রী বোঝাই করা কন্টেনারে গাঁজা পাচারের চেষ্টা করেছিল ধৃত। যদিও সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে পুলিশ। গাঁজা কোচবিহার থেকে মধ্যমগ্রামে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ধৃত যুবক। ধৃত যুবক প্রাথমিক জেরায় তেমনটাই স্বীকার করেছে বলে পুলিশের দাবি।
প্রসঙ্গত, জঙ্গিপুর পুলিশ এর আগে একাধিকবার মাদক পাচারের চেষ্টা রুখে দিয়েছে। সম্প্রতিকালে বেশ কয়েকজন পাচারকারীকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। গাঁজা পাচারের চেষ্টার অভিযোগে কয়েকজন মহিলাকেও পাকড়াও করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গাঁজা উৎকৃষ্ট মানের। সেগুলির বাজার ভালোই রয়েছে। বাজেয়াপ্ত হওয়া গাঁজার বর্তমান বাজারদর ১৫ লক্ষ টাকা বলে জানা গিয়েছে।
ফরাক্কায় গাঁজা সহ ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ কর্তারা।-নিজস্ব চিত্র