


নিজস্ব প্রতিনধি, বর্ধমান: ডিভিসির ছাড়া জলে পূর্ব বর্ধমানের ৭৪টি পঞ্চায়েতের ৫২৬টি মৌজার ধানচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৬ হাজার ৪৯৯ হেক্টর ধানজমি জলের তলায় রয়েছে। এই সমস্ত জমির ধান চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জল নামার পরও এই সব জমিতে বীজ রোপণ করা নিয়ে চাষিরা সংশয়ে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, নতুনভাবে বীজতলা তৈরি করে চাষ করা সম্ভব নয়। তাতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। সাধারণত ১৫ আগষ্টের মধ্যে বীজ রোপণ করা গেলে ধানের ফলন ভালো হবে বলে ধরে নেওয়া যায়। তারপরে বীজ রোপণ করলে ফলন ধাক্কা খায়।
পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওই এলাকাগুলিতে শস্যবিমায় জোর দেওয়া হয়েছে। সমস্ত চাষি যাতে বিমা করতে পারেন, তার জন্য মোবাইল ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। বিমার জন্য ফর্ম বিতরণ শুরু হয়েছে। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়না-১ ব্লকের আটটি পঞ্চায়েতের ১১৩টি মৌজার চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রায়না-২ ব্লকে ৪১, জামালপুরে ১২৩, খণ্ডঘোষে ৩৫, ভাতারে ৪০, মেমারি-১ ব্লকে ২১টি মৌজার ধানজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রায়না-১ ব্লকের তিন হাজার ৫০০, রায়না-২ ব্লকে দু’হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ক্ষতি হয়েছে। জেলায় সব মিলিয়ে ৪৫ হাজার ৫৪২জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রবিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এসে রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পনা করে বাংলার ক্ষতি করতে চাইছে। ডিভিসি নিজের ইচ্ছেমতো জল ছেড়ে চাষের জমি ডুবিয়ে দিচ্ছে। এর দায় কেন্দ্রকে নিতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ডিভিসি জল ছাড়ায় রায়না-২ ব্লকের চাষিরা সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। মুণ্ডেশ্বরী নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। দেবখালের জল বাঁধ টপকে গ্রামে ঢুকে গিয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, এই খালটি সংস্কার করা উচিত। না হলে ডিভিসি জল ছাড়লেই বড়বৈনান এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খালটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মজে গিয়েছে। বড়বৈনান এলাকার চাষি অমিত দাস বলেন, প্রতি বছর বর্ষার সময় আশঙ্কায় দিন কাটাতে হয়। ধানবীজ রোপণ করার পরই জমি জলের তলায় চলে যায়। প্রায় পাঁচদিন ধরে জমিতে জল জমে রয়েছে। অধিকাংশ জমির ধানগাছ পচে যাবে। নতুন করে বীজ রোপণ করা যাবে না। বীজের অভাব রয়েছে। এর স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।
কৃষি দপ্তর জানিয়েছে, এবছর জুন এবং জুলাই মাসে অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তারপর ডিভিসি জল ছাড়ছে। তাতে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। ধানের পাশাপাশি জেলায় সব্জিচাষও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।