


ভোপাল: নদীর ধারে বড় ট্যাংকার। সেখান থেকে গলগল করে বেরোচ্ছে দুধ। সরাসরি পড়ছে নদীতে। চারদিকে ঘিরে থাকা সাধু-সন্ত ভক্তরা জয়ধ্বনি দিচ্ছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এমনই এক ভিডিয়ো ঘিরে বেজায় বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রথমত জলদূষণ, দ্বিতীয়ত দুধের মতো পুষ্টিকর খাদ্যের অপচয়, দুই নিয়েই প্রশ্ন তুলছে ওয়াকিবহাল মহল।
ঘটনা মধ্যপ্রদেশের। চৈত্র নবরাত্রি উপলক্ষ্যে মহাযজ্ঞর আয়োজন করেছিল সেহোর জেলার সাতদেব গ্রামের শ্রী দাদাজি দরবার পাতালেশ্বর মহাদেব মন্দির কর্তৃপক্ষ। টানা ৯ দিন ধরে চলে উৎসব। ৫ একর জায়গা জুড়ে তৈরি প্যান্ডেলে কয়েক হাজার ভক্ত ভিড় জমিয়েছিলেন। এই অনুষ্ঠানেরই অন্যতম অংশ হিসাবে ছিল নর্মদা অভিষেক। তার জন্য ১১০০০ লিটারেরও বেশি দুধ ফেলা হয় নদীতে। আয়োজকদের দাবি, পুজোর অঙ্গ হিসাবে এই কাজ করা হয়েছে। যজ্ঞ চলাকালীন প্রতিদিন ১৫১ লিটার করে দুধ নদীতে ঢালা হয়েছে। একদিন ১১০০ লিটার এবং মূল অনুষ্ঠানের দিন ১১০০০ লিটার দুধ ঢালা হয়েছে। দাবি, নর্মদা নদীকে মাতৃজ্ঞানে পুজো করেছেন তাঁরা। শ্রী শিবানন্দ মহারাজ নামে এক ধর্মগুরুর কথাও উল্লেখ করে আয়োজক সংস্থা। অনুষ্ঠানটি হয়েছে ব্যক্তিগত অনুদানে, এবং কারও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন করা চলে না এ কথাও সাফ জানিয়েছেন তাঁরা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টা নিয়ে জোর বিতর্ক চলেছে। নদীতে দুধ ফেলা কী ধরনের দূষণ হতে পারে সেই নিয়ে আলোচনা করেছেন অনেকেই। পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশে কত শিশু-মহিলা অপুষ্টির শিকার সেই তথ্য উল্লেখ করেও এহেন ধর্মীয় আচারের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।