নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দুর্গম পথ। পদে পদে বিপদের হাতছানি। পৌরাণিক মতে কেদার ও বদ্রীর সংযোগস্থল হিসাবে চিহ্নিত পানপাটিয়া পাস। সেই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করলেন ১১ জন পর্বতারোহী। তাঁদের মধ্যে আটজন কলকাতার এবং তিনজন সোনারপুরের বাসিন্দা। যাত্রা শুরু থেকে ছ’দিনে তাঁরা শেষ করেছেন অভিযান পর্ব। গত ৩ জুন বদ্রীনাথের বেনেকুলি থেকে হাঁটা শুরু করেন এই ১১ জন। সঙ্গে ছিলেন নয় জন পোর্টার। পথ দেখাতে সাহায্য করেছেন চারজন গাইড। প্রথম দিন থেকেই রাস্তা ছিল দুর্গম। অভিযানের তৃতীয় দিন থেকে শুরু হয় পাথুরে এবং বরফঢাকা পথ। বৃষ্টি এবং দুর্যোগের কারণে পর্বতারোহীদের সঙ্গে থাকা স্লিপিং ব্যাগও ভিজে যায়। ফলে পার্বতী গোলি বেস ক্যাম্পে একটি মাত্র তাঁবু খাটিয়ে ওই ১১ জনকে রাত কাটাতে হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে পরদিন সকালে অভিযান চালিয়ে যান পর্বতারোহীরা। প্রথম ধাপ হিসাবে পানপাটিয়া আইসফিল্ডে পৌঁছে সেখানে ক্যাম্প করতে হয় তাঁদের। সেখানকার তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১০ ডিগ্রি। সেই রাত কেটে গেলেও তার পরেরদিন আসল বিপত্তির মুখে পড়তে হয় ওই অভিযাত্রীদের। যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ বাদেই বরফ পড়তে শুরু করে। চারদিক সাদা হয়ে যায়। ফলে আর এগতে না পেরে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সেখানেই তাঁবু খাটিয়ে অপেক্ষা করেন অভিযাত্রীরা। প্রায় ৫৩০০ মিটার উচ্চতায় খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই রাত কাটাতে হয় তাঁদের সবাইকে। এরকম যাবতীয় বাধাবিপত্তি কাটিয়ে ৯ জুন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ পানপাটিয়া পাসের শীর্ষে উঠে অভিযান সফল করেন পর্বতারোহীরা। ১০ জুন ভয়ঙ্কর কাচনি খাল অতিক্রম করে মধ্যমহেশ্বর নেমে আসেন সবাই। দলের এক সদস্য সাত্যকি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এই পৌরাণিক পথ অতিক্রম করার পাশাপাশি যে ১১ কিলোমিটার আইসফিল্ড রয়েছে, সেখানে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করার ইচ্ছে ছিল। তার জন্য এই রুট বেছে নেওয়া। অভিযানে বিপদের ঝুঁকি ছিল। প্রাণ সংশয় থাকলেও মনের জোরে পুরোটা শেষ করতে সক্ষম হয়েছি।’



