Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পার্ক স্ট্রিটের হোটেলে বসেই দেশজুড়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার জামতাড়া গ্যাংয়ের ১১ জন

পার্ক স্ট্রিট এলাকায় হোটেলে বসে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনার টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণা চালাচ্ছিল জামতাড়া গ্যাংয়ের সদস্যরা।

পার্ক স্ট্রিটের হোটেলে বসেই দেশজুড়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার জামতাড়া গ্যাংয়ের ১১ জন
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পার্ক স্ট্রিট এলাকায় হোটেলে বসে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনার টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণা চালাচ্ছিল জামতাড়া গ্যাংয়ের সদস্যরা। খবর পেয়ে মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকার ওই হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে চক্রের পাণ্ডা কুন্দন কুমার সহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করল পার্ক স্ট্রিট থানা। এদের মধ্যে রয়েছে এক কলেজ ছাত্র। কলকাতায় বেড়াতে আসার নাম করে হোটেলে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।  তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়ে প্রচুর মোবাইল ফোন। রোমিং কলসেন্টার চালিয়ে তারা দেশজুড়ে প্রতারণা করছিল বলে অভিযোগ।

Advertisement

বুধবার রাতে পার্ক স্ট্রিট থানা জানতে পারে, মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় একটি হোটেলে জনা দশেক যুবক এসে উঠেছে। তারা দু’টি ঘর ভাড়া নিয়েছে। এই যুবকরা জামুই, দেওঘর সহ বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গার বাসিন্দা। পুলিশের একটি টিম ওই হোটেলে গিয়ে রেজিস্টার চেক করলে জানতে পারে, দু’টি রুমে তারা মোট ১১ জন রয়েছে। হোটেলের রেজিস্টারে তারা লিখেছে, কলকাতায় বেড়াতে এসেছে। এরপর অফিসাররা দু’টি দলে ভাগ হয়ে সটান তাদের ঘরে ঢুকে যান। দেখেন, রোমিং কলসেন্টার খুলে প্রতারণা চলছে। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ১১ জনকে।
ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, কোনো ঘর বা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে কল সেন্টার খুলে প্রতারণার ব্যবসা চালানোর ক্ষেত্রে এখন ঝুঁকি রয়েছে। তাই হোটেল বসেই তারা এই কারবার চালাচ্ছে। পুলিশি ধরপাকড় এড়াতে পাঁচ-সাতদিন থাকার পর তারা হোটেল বদলে অন্য হোটেলে চলে যাচ্ছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে টেলিগ্রাম অ্যাপে যুক্ত করত। এরপর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, পিএম কিষাণ যোজনার টাকা পাওয়া যাবে বলে মেসেজ পাঠাত। যাঁরা রাজি হতেন, তাঁদের ব্যক্তিগত মোবাইলে লিংক পাঠাত অভিযুক্তরা। নেওয়া হত আধার কার্ড। লিংকে ক্লিক করা মাত্রই আবেদনকারীর মোবাইলের দখল নিত অভিযুক্তরা। তারপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফাঁকা হয়ে যেত আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। হাতানো টাকা বিভিন্ন ভাড়ার অ্যাকাউন্টে জমা পড়ত। সেই অ্যাকাউন্টগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ