Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্লাসরুমে টিফিন খাওয়ার সময় অস্বাভাবিক মৃত্যু দশমের ছাত্রের

বিধাননগরের স্কুলে টিফিন খাওয়ার সময় অচেতন হয়ে পড়ে মৃত্যু হল ১৬ বছরের ছাত্র মহম্মদ রায়হানের। তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পড়ুন।

ক্লাসরুমে টিফিন খাওয়ার সময় অস্বাভাবিক মৃত্যু দশমের ছাত্রের
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ক্লাসরুমে বসে টিফিন খাচ্ছিল সে। খেতে খেতে আচমকা অচেতন হয়ে পড়েছিল। উদ্ধার করে দ্রুত স্কুলের পাশে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু, শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, ব্রড ডেথ! সোমবার দুপুরে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটল বাগুইআটির দেশবন্ধুনগরের চিত্তরঞ্জন কলোনি হিন্দু বিদ্যাপীঠে। জলজ্যান্ত পড়ুয়ার অকস্মাৎ মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাকরুদ্ধ পরিবারও। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম মহম্মদ রায়হান (১৬)। সে দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। সংগ্রহ করা হয়েছে ক্লাসরুমের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও।

Advertisement

স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র প্রসাদ গুহরায় বলেন, ‘টিফিন টাইমে সে যেখানে বসে টিফিন খাচ্ছিলে, সেখানেই পড়ে যায়। ৩-৪ মিনিটের মধ্যে আমরা পাশের হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় সবাই মর্মাহত। পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়েছে’। রাজারহাট নিউটাউনের ঘুণি মাঝেরপাড়ায় বাড়ি রায়হানের। বাবা মহম্মদ আকবর আলি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। মা গৃহবধূ। ছেলের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তাঁরা বাকরুদ্ধ। গোটা পাড়ায় শোকের ছায়া। শোকস্তব্ধ স্কুল। রায়হানের সহপাঠীরাও। এদিন রাত পর্যন্ত পরিবারের তরফে অবশ্য‌ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো এদিনও হাসিমুখে স্কুলে এসেছিল রায়হান। টিফিনের ঘণ্টা বাজার পর সে ক্লাসরুমে বসে টিফিন খাচ্ছিল। আশপাশে অনেক সহপাঠীও ছিল।
খেতে খেতে সে আচমকা পড়ে যায়। সহপাঠীরা দৌড়ে এসে তাকে সোজা করার চেষ্টা করে। দেখে, সে অচেতন হয়ে পড়েছে। মুহূর্তের মধ্যে স্কুলের শিক্ষকরা দৌড়ে আসেন। ওই স্কুলের পাশে রয়েছে দেশবন্ধুনগর হাসপাতাল। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, চিকিৎসরকা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু, কীভাবে মৃত্যু হল তা স্পষ্ট হয়। খাওয়ার সময় শ্বাসনালী কোনোভাবে খাবার গিয়েছে? নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। সেই রির্পোট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। প্রাথমিক তদন্তের জন্য ক্লাসরুম সহ স্কুলের একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। পরিবারকেও ফুটেজ দেখানো হবে। তদন্ত চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ