নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ২৯ এপ্রিল রাজ্যের একাধিক জেলার সঙ্গে হাওড়াতেও ভোটগ্রহণ। এ জন্য হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় প্রায় ১০৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা হয়েছে। প্রায় সাত হাজারেরও বেশি জওয়ান মোতায়েন থাকবেন এই এলাকায় বলে জানা গিয়েছে।
হাওড়া পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিশনারেট এলাকায় ১ হাজার ৪৩০টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য বিপুল সংখ্যক বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। শুক্রবার হাওড়ার নতুন পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের থাকার জন্য শহরের ১১৫টি স্কুল চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটের কয়েক দিন আগে থেকে ধাপে ধাপে বাহিনী এসে পৌঁছবে। নির্ধারিত স্কুলগুলিতে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা হবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সমস্তরকম ব্যবস্থা নেবে। জানা গিয়েছে, ভোটের আগে কমিশনের নির্দেশ মেনে একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে হাওড়া সিটি পুলিশ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। নাকা চেকিংয়ের জন্য ২২টি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং স্ট্যাটিক সার্ভিলেন্স টিম কাজ করছে। দ্বিতীয় হুগলি সেতু, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে সহ শহরের এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টগুলিতে সন্দেহজনক যানবাহন থামিয়ে চলছে তল্লাশি। প্রয়োজনে গাড়ি আটক করে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কমিশনারেট এলাকায় উদ্ধার হয়েছে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র। পাশাপাশি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে ১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইতিমধ্যে ১০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় রুটমার্চ ও টহল দিচ্ছে। বেআইনি মদ বিক্রির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানও চালাচ্ছে পুলিশ। থানাগুলি অবৈধ মদের ঠেক ভাঙার কাজ করছে। বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে মদ। বৃহস্পতিবার রাতে জগাছা থানার পুলিশ সাঁতরাগাছি এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ বোতল বেআইনি মদ উদ্ধার করে। কয়েকজন বিক্রেতাকেও আটক করে।