নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিতে মাদক পাচারের চল তেমন নেই। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হুগলির প্রত্যন্ত এলাকা পাণ্ডুয়ায় গাঁজা পাচারের জন্য ‘স্লিপিং ডেন’ তৈরি করেছিল পাচারকারীরা। পাণ্ডুয়া থেকে কলকাতা ও নদীয়া সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় গাঁজা পাচারের পরিকল্পনা ছিল তাদের। সোমবার রাতে পাণ্ডুয়ার একটি গোডাউনের ভূগর্ভস্থ ঘর থেকে ১০৩ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করে পুলিস। ওড়িশার চার বাসিন্দা সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর এই বিপুল পরিমাণ গাঁজা মজুত নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিসের হাতে আসে। ধৃতদের মঙ্গলবার আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিস। গোডাউন মালিক ও পাণ্ডুয়ার মণ্ডলাইয়ের ব্যবসায়ী ছোট সাউ পলাতক।
হুগলি গ্রামীণের ডেপুটি পুলিস সুপার অভিজিৎ সিনহা মহাপাত্র বলেন, ‘ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো পরিকল্পনা জানা হবে। তল্লাশি চালানো হবে। কিছু তথ্য মিলেছে। বিষয়টি গুরুতর। আমরা সবদিক খতিয়ে দেখছি।’ গ্রামীণ পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, মূলত গাঁজা পাচার করা নিয়ে পাচারকারীরা পরিকল্পনা করেছিল। হুগলি থেকে পাচার করা হলে সমস্ত মজুত মাল একসঙ্গে ধরা পড়বে না। আবার কম পরিমাণে কিন্তু দফায় দফায় বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করলে পাচার সহজ হবে। এই ছিল ছক। হুগলিতে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বাড়বাড়ন্ত নেই। সেই কারণে হুগলি এবং প্রত্যন্ত এলাকা পাণ্ডুয়াকে বাছা হয়েছিল। তবে আর কি পরিকল্পনা ছিল তা খতিয়ে দেখতে হবে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের একজন ওড়িশার কন্ধমালের বাসিন্দা। পাণ্ডুয়ার ছোটু সাউ ও ওড়িশার চার যুবক মূল চক্রী। তাদের তত্ত্বাবধানে পাণ্ডুয়ার তিন ব্যক্তি পাচারের কাজ করছিল। সকলকে মণ্ডলাইয়ের রাস্তার ধারে থাকা গোডাউন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে গাঁজা ছাড়াও নগদে লক্ষাধিক টাকা মিলেছে। টাকার উৎস নিয়ে চুপ ধৃতরা। তদন্তকারীদের দাবি, গাঁজা সরবরাহের জন্য অগ্রিম হিসেবে ওই টাকা নেওয়া হয়েছিল। সোমবার ভিন জেলায় পাচারের ছক ছিল। তবে তার আগেই পুলিসের অভিযান হয়।
কেন হুগলিকেই বাছা হল? রাজ্য পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশা থেকে মেদিনীপুর হয়ে গাঁজা বাংলায় ঢোকে। মূলত নদীয়াতে জমা করা হয় এবং ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় নদীয়া সহ একাধিক জেলায় পুলিসের ব্যাপক অভিযান হয়েছে। এসটিএফ’ও অভিযান চালায়। এই পরিস্থিতিতে নজর এড়াতে হুগলিকে গাঁজা মজুতের করার জায়গা হিসেবে বাছা হয়। পাণ্ডুয়া থেকে সড়কপথে এবং হুগলি জেলা থেকে জল, সড়ক ও রেলপথে বর্ধমান, নদীয়া যাওয়া সহজ। সেই অঙ্কেই পাচারের ছক কষা হয়েছিল।