


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ১৪ এবং ১৫ জুলাই দিল্লিতে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের পারফরমেন্স রিভিউ কমিটির (পিআরসি) বৈঠক হওয়ার কথা । এই বৈঠকে প্রতিটি রাজ্যে গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের কাজকর্মের পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার। কলকাতা হাইকোর্ট আগস্ট থেকে বাংলায় ১০০ দিনের কাজ চালুর নির্দেশ দেওয়ার পর এটিই প্রথম পিআরসি বৈঠক। স্বাভাবিকভাবেই এই বৈঠকে বাংলায় ১০০ দিনের কাজ চালু নিয়ে কেন্দ্র কোনও বক্তব্য রাখে কি না, সেদিকে নজর রয়েছে বিভিন্ন মহলের।
গত ১৮ জুন এ রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ চালু করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তারপর ১৭ দিন কেটে গেলেও বাংলায় কাজ শুরু করা নিয়ে কেন্দ্রের তরফে যোগাযোগই করা হয়নি রাজ্যের সঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে পিআরসি বৈঠকে রাজ্যের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানান, একমাত্র এনএসএপি প্রকল্পের যৎসামান্য টাকা ছাড়া অন্য কোনও প্রকল্পে এক টাকাও দেয় না কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার টাকা দেয়নি। এবার হাইকোর্টের নির্দেশের পরও ‘মনরেগা’ নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে এখনও তারা কোনও কথাই বলেনি। ফলে পিআরসি বৈঠকের অ্যাজেন্ডা বিশ্লেষণ না করে রাজ্যের পদক্ষেপ নির্দিষ্ট করা সম্ভব নয়।’
প্রসঙ্গত, এর আগেও পিআরসি বৈঠকে গিয়ে বকেয়া নিয়ে গলা চড়িয়েছে রাজ্য। বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রের আধিকারিকরা আকারে ইঙ্গিতে বাংলার টাকা ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিলেও রাজনৈতিক কারণেই টাকা আটকে রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতিতে এবারের বৈঠকেও কি রাজ্যের তরফে একই দাবি জানানো হবে? নাকি হাইকোর্টের রায়কে সামনে রেখে অন্য কোনও স্ট্র্যাটেজি বা কৌশল গ্রহণ করা হবে, প্রশাসনের অন্দরে তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কেন্দ্রের কোনও বার্তা আসে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে নবান্নের কর্তাদের। এদিকে, টাকা না দিয়েই ১০০ দিনের কাজের উপর নজরদারি চালাতে রাজ্যকে নয়া পোর্টাল চালুর নিদান দিয়েছে কেন্দ্র। তাই প্রশ্ন উঠছে, কাজের জন্য টাকাই না দিলে কীসের নজরদারি!