সংবাদদাতা, করিমপুর: বাংলাদেশি সন্দেহে আটক নদীয়ার দশ যুবক। তার মধ্যে ওড়িশায় পাঁচজন ও মুম্বইয়ে পাঁচজন আটক হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ন’ জনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও মুম্বইয়ে একজনকে এখনও আটক করে রাখা হয়েছে।
সংবাদদাতা, করিমপুর: বাংলাদেশি সন্দেহে আটক নদীয়ার দশ যুবক। তার মধ্যে ওড়িশায় পাঁচজন ও মুম্বইয়ে পাঁচজন আটক হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ন’ জনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও মুম্বইয়ে একজনকে এখনও আটক করে রাখা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মুরুটিয়া থানার নিউ শিকারপুরের বাসিন্দারা শ্রমিকের কাজ নিয়ে মুম্বই গিয়েছিলেন। বাংলায় কথা বলার কারণে তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়। জানতে পেরে জেলা পুলিস সকলের পরিচয়ের নথি পাঠানোর পর একজন বাদে তাঁদের সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গত শনিবার মুম্বইয়ে দিনমজুরের কাজ করার সময়ে পুলিস এসে তাঁদের পরিচয় জানতে চায়। শ্রমিকরা তাঁদের আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র দেখালেও পুলিস পাঁচজনকেই থানায় নিয়ে যায়। ওই পাঁচ শ্রমিকের নাম প্রসেনজিৎ সরকার, বিপ্লব সরকার, অশোক মাহাত, প্রশান্ত মণ্ডল ও সুনন্দ সরকার। সকলের বয়স ৩২ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে এবং সবাই মুরুটিয়া থানার নিউ শিকারপুর গ্রামের বাসিন্দা। রবিবার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত ও থানার মাধ্যমে ওই পাঁচ যুবকের সমস্ত নথি পাঠানো হয় মুম্বইয়ে। সোমবার চারজনকে ছেড়ে দিলেও সুনন্দ সরকারকে আটকে রেখেছে মুম্বই পুলিস। বিপ্লব সরকারের বাবা বিপদ সরকার বলেন, নিজেদের কোনও জমি জায়গা নেই। বাড়িতে আমি অসুস্থ। আমার বৃদ্ধা স্ত্রী, বিপ্লবের স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে আমাদের সংসার। এখানে কোনও কাজ না পেয়ে ছেলে মাস চারেক আগে গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে মুম্বইয়ে কাজে গিয়েছে। ওর পাঠানো টাকাতেই আমাদের সংসার চলে। পরশুদিন খবর আসে যে ওখানকার পুলিস তাদের বাংলাদেশি বলে আটক করেছে।
শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অনুপ বিশ্বাস জানান, ভারতে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে দেশজুড়ে। সেই সুযোগে ওখানে বেছে বেছে শুধুমাত্র বাংলাভাষী শ্রমিকদের রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্র, ওড়িশা সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে এই রাজ্যের শ্রমিকদের হেনস্তা করা হচ্ছে। অনেকেই আতঙ্কে বাড়ি ফিরে এসেছেন। পরিবারের কাছে শুনে ওঁদের সকলের পরিচয়পত্র পাঠানো হয়েছে এবং স্থানীয় থানার মাধ্যমে মুম্বই পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, ওড়িশায় কাজে গিয়ে আটক হয়েছেন করিমপুরের তিনজন ও থানারপাড়ার দুই যুবক। তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে সমস্ত নথি পাঠানো হয় এবং পাঁচজনকে রিলিজ করানো হয়। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও তাঁদের আটকে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর আমরা যোগাযোগ করি। আমরা সেখানকার পুলিসকে জানাই যে, তাঁরা এখানকার বাসিন্দা। তারপর সেখান থেকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।