নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশের উপর হামলা, রেললাইন উপড়ানো, ভাঙচুর, গণপিটুনি সহ একাধিক অভিযোগে বুধবার রাতে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করল বারুইপুর থানার পুলিশ। ফলে সবমিলিয়ে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ২৮। পুলিশের অভিযান জারি রয়েছে, ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। ধৃতদের বৃহস্পতিবার বারুইপুর আদালতে তোলা হলে, ধৃতদের আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পাশাপাশি নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ধৃত কবীর মোল্লাকে আদালত ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে, সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্পে এখনও ভাঙচুরের ছবি স্পষ্ট। তাণ্ডবের ঘটনার পর কেটে গিয়েছে তিনদিন। এখনও সেখানে ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙা কাচ, পড়ে আছে ছোট ছোট বাঁশের টুকরো প্রভৃতি। এগুলি দিয়েই হামলা চালানো হয়েছিল বলে দাবি পুলিশ কর্মীদের। তবে সেই ঘটনার পর থেকে এই পুলিশ ক্যাম্পে কেউ আসছেন না অভিযোগ জানাতে। এমনই দাবি উর্দিধারীদের একাংশের। তাঁদের বক্তব্য, এই অবস্থায় কে আসবে! এলাকার মানুষ এখন নতুন ফাঁড়ি চালুর অপেক্ষায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর সেখানে নতুন ফাঁড়ির জায়গা খোঁজা শুরু করেছেন পুলিশ সুপার। প্রসঙ্গত, নাবালিকার ধর্ষণ-খুনের জেরে রবিবার উন্মত্ত জনতার তাণ্ডবের শিকার হয়েছিল সূর্যপুর হাট পুলিশ ক্যাম্প।
ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ করা হয় সেখানে।
এদিকে, নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক তাণ্ডবপর্বে এক নিরীহ যুবককে পিটিয়ে খুনের ঘটনাও ঘটেছিল। পুলিশকে আক্রমণ, গাড়ি ভাঙচুর, রেললাইন উপড়ানো এবং পিটিয়ে খুনের ঘটনায় মোট ২০০ জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে গ্রেপ্তারি। বুধবার এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে ভিডিও ক্লিপিংস সহ পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কটাক্ষ—দাঙ্গা- হাঙ্গামাকারীরা কীভাবে প্রতিবাদকারী হয়! চূড়ান্তভাবে পরাজিত হওয়ার পরেও আপনার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। আপনার বক্তব্যে, যাদের প্রতিবাদকারী বলছেন, তারা একজন নিরীহ যুবককে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে পিটিয়ে খুন করল। যারা রেললাইন উপড়ে দিল, পুলিশের গাড়ি ভাঙল, আক্রমণ করল, যারা অশান্তি ছড়াল, তারা প্রতিবাদকারী! শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, মনে রাখবেন, এটা নতুন পশ্চিমবঙ্গ। মহিলা ও শিশুদের উপর অত্যাচারকারীরা চরম শাস্তি পাবেই।
এদিকে, নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর সূর্যপুর ক্যাম্পে আগের থেকে পুলিশ কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাস্তায় বিভিন্ন মোড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের পিকেট বসানো হয়েছে। দোকানপাট খুললেও, সন্ধ্যার পর তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মৃত নাবালিকার পরিবারের দাবি ছিল, স্থানীয় এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ির। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এদিন বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার অরবিন্দ আনন্দ সূর্যপুরে কোথায় এই ফাঁড়ি করা যায়, তা সরজমিনে খতিয়ে দেখেন। তিনি সূর্যপুর হাটের কাছে একটি ভাড়াবাড়ি ঘুরে দেখেন এবং তার মালিকের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। এছাড়াও বিকল্প বেশ কিছু জায়গাও পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার।