Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অশান্তি রুখতে আধাসেনার জওয়ানদের ১ লক্ষ লাঠি

কথায় আছে হাতির দেখানোর দাঁত একটা, আর চিবানোর আরেকটা! এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও ঠিক তেমনটাই হল। এবার ভোট নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী বা আধাসেনা নিয়োগ করেছে কমিশন।

অশান্তি রুখতে আধাসেনার জওয়ানদের  ১ লক্ষ লাঠি
  • ১ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: কথায় আছে হাতির দেখানোর দাঁত একটা, আর চিবানোর আরেকটা! এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও ঠিক তেমনটাই হল। এবার ভোট নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী বা আধাসেনা নিয়োগ করেছে কমিশন। সূত্রের খবর, রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পা রাখার পরই তাদের স্পষ্ট নির্দেশে কমিশন জানিয়েছিল, কোনো পরিস্থিতিতেই কাঁধে থাকা স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করা যাবে না। 

Advertisement

তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে কীভাবে? বাহিনীর কর্তাদের কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে রেখেছিল, ভোটের দিন বেগতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক হারে লাঠি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বুধবার দিনভর সেই চিত্রই দেখেছে বাংলা।
এই নির্বাচনে ১ লক্ষ লাঠি তুলে দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের হাতে। কমিশনের এক কর্তা জানাচ্ছেন, এই লাঠির দাওয়াইতেই সাফল্য এসেছে। দুই দফায় লাঠিচার্জ করেই দিনভর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গিয়েছে। কিন্তু এহেন সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণ খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হবে ঠিক বছর পাঁচেক আগে। ২০২১ সালের নির্বাচনে কোচবিহারের শীতলকুচিতে বাহিনীর গুলিতে নিহত হন সাধারণ ভোটাররা। সেই ঘটনায় যথেষ্ট মুখ পুড়েছিল কমিশনের। তা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার প্রথম থেকে লাঠির ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়। ‌কারণ অশান্তির ক্ষেত্রে লাঠির ব্যবহার অধিক কার্যকরী এবং কম প্রাণঘাতী। 
এবারে নির্বাচনে সিআরপিএফ থেকে শুরু করে বিএসএফ, এসএসবি,‌ আইটিবিপির মতো ইউনিটের আধাসেনা জওয়ানদের নিয়োগ করেছে কমিশন। এমনিতেই সিআরপিএফের জওয়ানদের কাছে লাঠি থাকে। লাঠি চালিয়ে অশান্তির নিয়ন্ত্রণে তাঁরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। কিন্তু বিএসএফ এবং এসএসবির জাওয়ানদের সেই প্রশিক্ষণ ছিল না। তাদের জন্য অন্তত ৭৫ হাজার লাঠির অর্ডার দেওয়া হয় ভিন রাজ্যে। লাঠিগুলি জওয়ানদের হাতে পৌঁছে গিয়েছিল ভোটের অনেক আগেই। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রশিক্ষণ দিয়ে লাঠির সদ্ব্যবহারে তাঁদের পাকাপোক্ত করে তোলা হয়। তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে মূলত দ্বিতীয় দফায়। দিনভর লাঠি চালিয়ে ছোটোখাটো অশান্তি সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন জওয়ানরা। দাবি করছেন কমিশনের ওই কর্তা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ