


নয়াদিল্লি: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচলপ্রদেশ। সোমবার থেকে ব্যাপক বৃষ্টি শুরু হয়েছে এই দুই প্রতিবেশী রাজ্যে। মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং হড়পা বানের জেরে হিমাচল প্রদেশে মৃত্যু হয়েছে একজনের। নিখোঁজ ১২। রাজ্যের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মান্ডি জেলায়। সোমবার বিকেল থেকে এই জেলায় ২১৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মান্ডির ডেপুটি কমিশনার অপূর্ব দেবগণ জানিয়েছেন, কারসং শহরে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। দুই পরিবারের সাতজন সদস্য এখন নিখোঁজ। বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশে বন্যার জেরে বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে। চাষের জমিরও বিরাট ক্ষয়ক্ষতি ভয়াল জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে বহু রাস্তা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জলে ভেসে যাচ্ছে গাড়ি। মান্ডির লৌঙ্গি পঞ্চায়েতে বহু বাড়ি, গোয়ালঘর, ঘোড়া, ছাগল রাখার জায়গার এখন আরও কোনও অস্তিত্ব নেই। রাজ্যের অধিকাংশ নদীর জল বিপদ সীমার কাছে পৌঁছেছে। এই অবস্থায় বিপাশা নদীর পান্ডোয়া জলাধার থেকে দেড় লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশেও গঙ্গার জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। এই অবস্থায় নদী তীরের লোকজনকে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলল প্রশাসন। পুলিস এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের (এসডিআরএফ) পক্ষ থেকে এই নিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এখন গঙ্গার জলস্তরের উচ্চতা সঙ্কটস্তর ১.৩৮ সেমির কাছাকাছি বইছে। এই অবস্থায় স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে টহল দিতে শুরু করেছে পুলিস। স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর থেকে দেরাদুন, উত্তরকাশী এবং তেহরি গেরওয়ালের জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চম্পাওয়াত, নৈনিতাল এবং রুদ্রপ্রয়াগের জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।