সংবাদদাতা, বোলপুর: ছাগল চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে শান্তিনিকেতন থানার কলহরপুরে। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত যুবকের নাম শেখ শাহজাহান(২৮) তাঁর বাড়ি নানুর থানার থুপসরা পঞ্চায়েতের পালুন্দি গ্রামে। মঙ্গলবার মৃত শাহজাহানের দেহ ময়নাতদন্তের পর স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে শান্তিনিকেতন থানার পুলিস।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিনিকেতন থানার আলবাঁধা- সর্পলেহনা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন মাঠ থেকে সম্প্রতি ছাগল চুরি যাচ্ছিল। এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা পুলিসের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ছিল। সোমবার রাতে বাইকে করে তিনজন যুবক ছাগল চুরি করতে আসে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে একজনকে ধরে ফেলেন। তবে বাকি দু’জন পালিয়ে যায়। এরপর শেখ শাহজাহানকে গ্রামবাসীরা বেধড়ক মারধর করে। খবর পেয়ে ওই এলাকায় পৌঁছয় পুলিস। গুরুতর জখম অবস্থায় শাহজাহানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু, মারধরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত শেখ শাহজাহান ও পলাতকদের বাড়ি নানুর থানা এলাকায়।
তবে পিটিয়ে মারার ঘটনার পর থেকেই কলহরপুর গ্রাম থমথমে। ওই গ্রামে পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় পুলিস এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি বলে জানা গিয়েছে।
যদিও মৃতের কাকা শেখ ইব্রাহিমের দাবি, তাঁর ভাইপো শাহজাহানকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে মারলেও সে এই ধরনের কোনও কাজে যুক্ত ছিল না। সোমবার রাতে শাহজাহানের সঙ্গে তার স্ত্রীর কোনও বিষয়ে বাদানুবাদ হয়। আর তাতেই শাহজাহানের বাবা রেগে গিয়ে তাকে চড় থাপ্পড় মারে। এরপর ভাইপো রেগে ওইদিন রাতেই ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এরপরে সকালে জানতে পারছি আমার ভাইপোকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। অপরাধমূলক কোনও ঘটনায় যুক্ত থাকলে তাকে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি। অভিযুক্তদের কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এবিষয়ে শান্তিনিকেতন থানার এক আধিকারিক বলেন, মারধরের খবর পেতেই তড়িঘড়ি সেখানে পুলিস পাঠানো হয়। এরপর সেখান থেকে গুরুতর অবস্থায় শাহজাহানকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও বাঁচানো যায়নি। তবে, নানুরে বাড়ি হওয়ার সত্ত্বেও এত রাতে কলহরপুরে শাহজাহান কী করছিল? বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছি। আর মারধরে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।