সুকান্ত বেরা, কলকাতা: বাংলায় প্রবাদ আছে, একটা পচা আলু পুরো ঝুড়ি নষ্ট করে দেয়। কলকাতা নাইট রাইডার্সে ক্যামেরন গ্রিনের অবস্থা সেরকমই। যদিও, নিলামে রেকর্ড ২৫.২ কোটি দিয়ে তাঁকে কেনার পর মনে হয়েছিল, হাতে চাঁদ পেয়েছে শাহরুখ খানের দল। ছাব্বিশের আইপিএলে তিনিই হয়ে উঠবেন পরিত্রাতা। কিন্তু সাফল্য তো দূরে থাক, ফর্ম হাতড়ে বেড়াচ্ছেন গ্রিন। তাঁর ধারাবাহিক ব্যর্থতা দলের মনোবলও ভেঙে দিয়েছে। কারণ, তিনিই ছিলেন মধ্যমণি। তাঁর হতাশাজনক পারফরম্যান্স দলের বাকি সদস্যদের প্রবল চাপে ফেলে দিচ্ছে। ১৯ বছরে প্রথমবার পাঁচ ম্যাচেও জয় না আসার অন্যতম কারণ এটাই।
গ্রিনের দুর্দশা দেখে এই মুহূর্তে সবচেয়ে খুশি তামিল ব্রাহ্মণ এন শ্রীনিবাসন। তিনিও চেয়েছিলেন নিলামে গ্রিনকে কিনতে। রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে অজি অলরাউন্ডারের জন্য ২৫ কোটির দরও হেঁকেছিল চেন্নাই। কিন্তু ২৫.২ কোটি দিয়ে গ্রিনকে ছিনিয়ে নিয়েছিল কেকেআর। কিন্তু কে জানত, সেই মহামূল্যবান ক্রিকেটারই শেষ পর্যন্ত মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়াবেন নাইট ব্রিগেডের!
আন্দ্রে রাসেলকে দ্রুত ‘ভিআরএস’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বড় ভুল। আর যাই হোক ‘দ্রে রাস’ গ্রিন-অ্যালেনদের থেকে অনেক ভালো ব্যাট করতেন। সমর্থকরা আপসোস করে বলছেন, রাসেল তুমি অবসর ভেঙে ফিরে এসো। গ্রিন মোটেও রাসেলের বিকল্প নন। রভম্যান পাওয়েলের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের ওপেনার ফিন অ্যালেনের শোচনীয় অবস্থা। টি-২০ বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স দেখার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, কেকেআরের জার্সিতে একই মেজাজে দেখা যাবে অ্যালেনকে। কিন্তু ৫ ম্যাচে তিনি করেছেন ৮১ রান। সর্বাধিক ৩৭। ব্যাটিং গড় ১৬.২০। তবুও খেলে যাচ্ছেন। টিম সেইফার্ট, রাচীন রবীন্দ্ররা সুযোগ পাচ্ছেন না। মানতেই হবে, বিদেশি চয়নে কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট পুরোপুরি ব্যর্থ।
শুধু মাঠে নেমে পারফর্ম করা নয়, আইপিএলে সাফল্য পাওয়ার জন্য দরকার সঠিক পরিকল্পনাও। এক্ষেত্রে কেকেআর অনেক পিছিয়ে। শ্রেয়স আয়ারের মতো ক্রিকেটারকে ছেড়ে দেওয়া ঐতিহাসিক ভুল। রাহানে মোটেও ক্যাপ্টেন মেটিরিয়াল নন। বাস্তব ও আবেগের সম্পৃক্তকরণ ঘটাতে না পারলে ভরাডুবির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়। ছাব্বিশের আইপিএলে কেকেআরের অবস্থাও তাই। রিঙ্কু সিংকে ভাইস ক্যাপ্টেন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে ব্যুমেরাং। কারণ, যে রিঙ্কুকে একটা সময় ফিনিশার ভাবা হত, এখনও পর্যন্ত সেই তিনি একটা হাফ-সেঞ্চুরিও হাঁকাতে পারেননি। সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব তাঁর কাছে হয়ে উঠেছে বোঝা। দল হারছে, তিনিও চাপে। প্রভাব পড়ছে পারফরম্যান্সে। রামনদীপকেও খেলিয়ে যাওয়ার কারণও স্পষ্ট নয়। দেখে মনে হচ্ছে, টিম ম্যানেজমেন্টের আশীর্বাদ রয়েছে তাঁর উপরে।
খেলায় হারজিত থাকে। তবে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়াটা জরুরি। ওয়াটসন, নায়াররা কি দেওয়াল লিখন পড়তে পারছেন? অন্য দলগুলি তরুণ ক্রিকেটারদের উপর ভরসা রেখে সাফল্য পাচ্ছে। সেই পথে হাঁটছে না কেন কেকেআর? সময় থাকতে বুঝলে ভালো। না হলে প্লে-অফ ক্রমশই হয়ে উঠবে দূর অস্ত!