দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেষ হয়নি কাজ। ফলে সুদ হিসাবে বাড়তি প্রায় ৮৩৫ কোটি টাকা গুণতে হয়েছে রেলকে। আবার অন্য এক প্রকল্পে কম মূল্যের বরাত বাতিল করে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচে ওই প্রজেক্টের বাকি অংশের বাস্তবায়ন হয়েছে। রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্নে রেলের জবাবে এমনই হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। এমনকি তৃণমূলের প্রশ্নে রেলমন্ত্রক এও জানিয়েছে যে, এবিষয়ে সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশনকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এর অর্থ হল, গরমিল সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রেলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাজ্যসভায় লিখিত প্রশ্ন করেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সাকেত গোখলে। তারই লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ওই দু’টি বিষয়ের সবিস্তার তথ্য পেশ করেছেন। রেলমন্ত্রকের লিখিত জবাবে বলা হয়েছে যে, মুম্বইয়ের বান্দ্রা ইস্টে রেলের একটি জমির বাণিজ্যিকীকরণের উদ্দেশ্যে রেল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (আরএলডিএ) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে রেলের যাত্রী ভাড়া না বাড়িয়ে বিকল্প পথে আয় বৃদ্ধির পথ সুগম হত। কিন্তু সেভাবে সাড়া মেলেনি। ফলে ওই জমির বাণিজ্যিকীকরণের দায়িত্ব কোনও ডেভেলপারকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। রেল জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড বা ইরকন ইন্টারন্যাশনাল এবং ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ফিনান্স কর্পোরেশনের (আইআরএফসি) সঙ্গে এব্যাপারে চুক্তি করবে আরএলডিএ। সেইমতো অর্থের সংস্থান করা হবে। কিন্তু দেশব্যাপী করোনা মহামারী এবং অন্যান্য কিছু সমস্যা তৈরি হওয়ায় এসংক্রান্ত কাজ সময়ে শেষ করা যায়নি। এর ফলে চুক্তির শর্ত মেনে আইআরএফসিকে প্রায় ৮৩৫ কোটি টাকা সুদ বাবদ মেটাতে হয় রেল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটিকে।



