Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করে আয় করছেন কেশপুরের মহিলারা

স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করে স্বনির্ভর হচ্ছেন কেশপুরের মহিলারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কেশপুরের মহিলারা হাসপাতালে ব্যবহৃত স্যানেটারি ন্যাপকিন (লেবার রুম ন্যাপকিন) তৈরি করে তাক লাগাচ্ছেন।

স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করে আয় করছেন কেশপুরের মহিলারা
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করে স্বনির্ভর হচ্ছেন কেশপুরের মহিলারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কেশপুরের মহিলারা হাসপাতালে ব্যবহৃত স্যানেটারি ন্যাপকিন (লেবার রুম ন্যাপকিন) তৈরি করে তাক লাগাচ্ছেন। জেলায় প্রথম কেশপুরের মহিলারাই স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করছেন। তাঁদের তৈরি ন্যাপকিন আগামী দিনে ভিনরাজ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এরফলে কেশপুর ব্লকের মহিলাদের আর্থিক উন্নতি হবে বলে মনে করেছে প্রশাসন।

Advertisement

জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের মতে, এই ন্যাপকিন তৈরির মাধ্যমে আগামী দিনে ২৫০ থেকে ৩০০ মহিলার কর্মসংস্থান হবে। কেশপুর ব্লকের কর্মতীর্থে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যেই আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে এই ন্যাপকিন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক মিশন ডিরেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক (কৃষি) গোবিন্দ হালদার বলেন, মহিলারা নিপুণ হাতে কাজ করছেন। জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মহিলারা যাতে আরও বেশি পরিমাণে স্বনির্ভর হতে পারেন, সেই দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। জেলার ১০০ শতাংশ মহিলাকে স্বনির্ভর করে তোলাই প্রধান লক্ষ্য।

প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার চাইছে জেলায় জেলায় মহিলাদের স্বনির্ভর করতে। সেইমতো জেলার মহিলাদের নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় প্রশাসনের উদ্যোগে। জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসেও মহিলাদের স্বনির্ভর করার বার্তা দিয়েছেন। রাজ্য সরকারও চাইছে জেলার হস্ত শিল্পের বিকাশ করতে। বেশকিছু বছর ধরেই প্রশাসনের তরফে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম ব্লকস্তরে মহিলাদের নানা ধরনের ট্রেনিং দেওয়ার কাজ। এরফলে কর্মসংস্থান অনেকটাই বেড়েছে। একইসঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির অনেকটাই পরির্বতন হচ্ছে। সেই কথা মাথায় রেখেই স্যানেটারি ন্যাপকিন তৈরি করছেন মহিলারা।

প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার ন্যাপকিন তৈরি করছেন মহিলারা। ন্যাপকিনগুলি বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে অনুমোদন মিললেই বিভিন্ন বেসরকারি নার্সিংহোমে ন্যাপকিন সাপ্লাই করবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাই। সরকারি নিয়ম মেনে প্রথমে কাঁচা মাল অর্থাৎ উন্নতমানের তুলো বা কটন কেনা হচ্ছে। এরপর উন্নতমানের মেশিনের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে ন্যাপকিন। এমনকী, প্রতিটি ন্যাপকিন ভাইরাস মুক্ত করার জন্য আলাদা মেশিন বসানো হয়েছে। সেই ন্যাপকিন বিভিন্ন হাসপাতালের লেবার রুমে ব্যবহার করা হবে। অপারেশনের সময় এই বিশেষ ধরনের ন্যাপকিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কেশপুরের বাসিন্দা রুপালি বেরা, রাকিনা বেগম বলেন, সংসারে অভাব রয়েছে। এই কাজ আয়ের নতুন দিশা দেখাচ্ছে। ট্রেনিং দিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ