সংবাদদাতা, বনগাঁ: সোমবার সকালে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল ছবি হালদার (৪৩) নামে এক মহিলার। বনগাঁ থানার কালুপুর পাঁচপোতার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ স্বামীর বাইকে করে বনগাঁর দিকে আসছিলেন ছবিদেবী। সিকদারপল্লি এলাকায় বাইক থেকে ছিটকে পড়ে যান তিনি। তখন বনগাঁগামী একটি লরি তাঁর মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। দ্রুত তাঁকে বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মহিলার স্বামীর সেভাবে কোনো চোট লাগেনি। জানা গিয়েছে, কলকাতায় রান্নার কাজ করতেন ছবিদেবী। এদিন সকালে স্বামীর সঙ্গে ট্রেন ধরতে বনগাঁ স্টেশনে যাচ্ছিলেন। তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। ঘটনার পর পলাতক লরিচালক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ।
এদিনের দুর্ঘটনার জন্য বেপরোয়া যান চলাচলকেই দায়ী করেছেন বনগাঁর বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, শহরে যান নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ প্রশাসন। এ ব্যাপারে তাদের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত পেট্রাপোল দিয়ে রোজ শয়ে শয়ে পণ্যবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে যায়। বাসিন্দারা বহুবার দাবি জানিয়েছেন, শহরের ভিতরে ট্রাক চলাচলের সময় বেঁধে দিক প্রশাসন। কিন্তু তাতে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তবে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের টনক নড়ে। শহরে লরি চলাচলের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু দু’দিন বাদে সেই পুরনো ছবিই ফিরে আসে। চলাচল করা বেশিরভাগ ট্রাকে থাকেন না খালাসি। অনেক সময় চালক ছাড়া খালাসিরা ট্রাক চালিয়ে নিয়ে যান। কয়েক মাস আগে পেট্রাপোল থানার হরিদাসপুরে একইভাবে দুর্ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যু হয়েছিল। তাছাড়া শহরের ফুটপাত দখল হয়ে গিয়েছে। রাস্তার উপর অটো-টোটোর একাধিক স্ট্যান্ড থাকায় তা সংকীর্ণ। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হচ্ছে নিরীহ বাসিন্দাদের। যদিও পুলিশের দাবি, ব্যস্ত সময় শহরে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।