


নয়াদিল্লি (পিটিআই): বিধানসভায় বিল পাশ হাওয়া সত্ত্বেও যদি রাজ্যপাল তাতে সই না করেন, সাংবিধানিক পদাধিকারীরা যদি তাঁদের দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে সংবিধানের ‘তত্ত্বাবধায়ক’ হিসেবে আদালত কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? এমন পরিস্থিতিতেও কি আদালতের হাত বাঁধা থাকতে পারে? বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের এই প্রশ্নের মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় সরকার। এদিন কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতার বক্তব্য ছিল, বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলে সই করতে যদি কিছু রাজ্যপাল বিলম্ব করেন, তাহলে রাজ্য সরকারগুলির সামনে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সমাধানসূত্র খোঁজার রাস্তা খোলাই থাকে। কথায় কথায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়া উচিত নয়। তাঁর এই বক্তব্য শুনেই কেন্দ্রকে শীর্ষ আদালতের পাল্টা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
পাশ হওয়া বিলে সই না করে তা দীর্ঘদিন ফেলে রাখার অভিযোগে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্যপাল কোনও বিল রাষ্ট্রপতির কাছে যদি পাঠান, তাহলে রাষ্ট্রপতিও কি অনির্দিষ্টকালের জন্য সেই বিল ফেলে রাখতে পারেন, সেই প্রশ্নও উঠেছিল। এই মামলাতেই গত ৮ এপ্রিল নজিরবিহীনভাবে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ছিল, কোনও বিল বিবেচনার জন্য হাতে আসার তিন মাসের মধ্যে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে রাষ্ট্রপতিকে। যদিও গত ১ মে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ১৪৩(১) ধারায় বিশেষ ক্ষমতার প্রয়োগ করে আদালতের কাছে জানতে চান, বিচারবিভাগ কি রাষ্ট্রপতিকে সিদ্ধান্তগ্রহণের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে? এই ইস্যুতেই শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে। এদিন এই ইস্যুতে কেন্দ্রের তরফে সলিসিটার জেনারেলের বক্তব্য ছিল, রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংবিধানে কোনও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া নেই। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, যদি কিছু ভুল থেকে থাকে তাহলে তার প্রতিকারও থাকতে হবে। আদালত হল সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক। আক্ষরিক অর্থের মাধ্যমে সংবিধানের ব্যাখ্যাও আদালতকেই করতে হবে।