রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: সিপিএমের রক্তক্ষরণ অব্যাহত! সংগঠনে যেভাবে ধ্বস নেমেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই লাল পার্টির বিরুদ্ধে ওই মন্তব্য। কিন্তু এখন ওরা বিধানসভা এবং লোকসভায় শূন্য। যার পরিপ্রেক্ষিতে নিশানায় এবার গেরুয়া পার্টি। তাতে সিপিএমের মতো অবস্থা বিজেপিও। সংগঠনে যেভাবে ফাটল প্রতিদিন চওড়া হচ্ছে, তাতে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলের তকমা ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ গেরুয়া শিবিরের কাছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় 'আব কি বার ২০০ পার' আওয়াজ তুলেছিল বিজেপি। কিন্তু ২০০ আসন তো দূরের কথা, ১০০-র ধারে কাছেও পৌঁছতে পারেনি গেরুয়া শিবির। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করে বিজেপি যেতে মাত্র ৭৭টি আসনে। সেখানে তৃণমূল এককভাবে লড়াই করে পেয়েছে ২১৫টি বিধানসভা আসন। কিন্তু দিন যত এগিয়েছে, ততই দেখা গিয়েছে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা কমেছে। যে তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক তাপসী মন্ডল। ২০২১ সালের মে মাস থেকে ২০২৫ সালের মার্চ মাসের মধ্যে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা কমিয়ে দাঁড়ালো ৬৫। এখন তৃণমূলের সরকারিভাবে বিধায়ক সংখ্যা ২২০। ফেব্রুয়ারি মাসে নদীয়া জেলার তৃণমূল বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদ প্রয়াত হয়েছেন। এছাড়াও দলবদলু রয়েছেন পাঁচজন বিজেপি বিধায়ক। মুকুল রায়, তন্ময় ঘোষ, সুমন কাঞ্জিলাল, হরকালি পতিহার এবং তাপসী মন্ডল বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও ইতিমধ্যে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন কংগ্রেসের বাইরন বিশ্বাস। ফলে তৃণমূলের সরকারি এবং দলবদলু নিয়ে বিধায়ক সংখ্যা ২২৬। সেইসঙ্গে নির্দল বিধায়ক রুদেন সাদা লেপচা তৃণমূলের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করেছেন। দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আস্থা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেখানে ক্রমশ কমছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা। তৃণমূল দাবি করেছে, আরও কয়েকজন বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।এখানে তৃণমূল চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বিজেপিকে, আগামী বছর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বিরোধী দলের তকমা ধরে রাখতে পারবে তো! যদিও পাল্টা বিজেপি শিবির দাবি করেছে, সুষ্ঠুভাবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ভোট হলে তৃণমূলের ফল কোনওভাবেই ভালো হবে না।