


ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের ক্ষমতায় কি ফের এক সেনাপ্রধান? আসিফ আলি জারদারিকে সরিয়ে কি প্রেসিডেন্টের কুর্সি দখল করতে চলেছেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির? রাজনৈতিক নেতৃত্ব বারবার সেই জল্পনা খারিজ করছে বটে। কিন্তু গুঞ্জন কিছুতেই থামছে না। মঙ্গলবার পরপর দু’টি হাই-প্রোফাইল বৈঠক সেই জল্পনা আরও বাড়িয়েছে। প্রথম বৈঠকটি হয় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট জারদারির মধ্যে। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এসে শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বয়ং সেনাপ্রধান মুনির। এই জোড়া বৈঠক ঘিরে তীব্র চর্চার মধ্যেই শোনা যাচ্ছে, সংবিধান সংশোধনের তোড়জোড় চলছে। ২৭তম এই সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্য হবে, পাকিস্তানকে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা থেকে স্থায়ীভাবে প্রেসিডেন্ট শাসিত রাষ্ট্রে পরিণত করা। আর সেই
সূত্রেই জারদারিকে সরিয়ে প্রেসিডেন্ট পদে বসবেন সেনাপ্রধান মুনির। যদিও অসামরিক নেতৃত্বের শীর্ষ স্তর থেকে দাবি করা হচ্ছে, মঙ্গলবারের বৈঠকে এধরনের কোনও আলোচনা হয়নি। তবে তাতে সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনা থামছে না।
গত সপ্তাহে একদফায় জল্পনা খারিজ করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তাঁর দাবি ছিল, আসিফ আলি জারদারিই প্রেসিডেন্ট পদে থাকছেন। তাঁকে সরিয়ে প্রেসিডেন্ট পদে বসার কোনও বাসনা সেনাপ্রধান মুনিরের নেই। এমন কোনও ইচ্ছার কথা তিনি কখনও প্রকাশও করেননি। যদিও মঙ্গলবারের ওই জোড়া বৈঠক নতুন করে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। সমাজমাধ্যমের পাশাপাশি কিছু মিডিয়া রিপোর্টেও জারদারিকে সরিয়ে মুনিরের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদ দখলের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ দাবি করেন, এসব ভিত্তিহীন রটনা ছাড়া আর কিছু নয়। এবিষয়ে একটি মিডিয়া রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। জোট সরকারের দুই শরিক দল শাহবাজ শরিফের পিএমএল-এন এবং জারদারির পিপিপি-র মধ্যে কোনও সংঘাতও তৈরি হয়নি। যদিও ওই মিডিয়া রিপোর্ট নিয়ে যে তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কথা হয়েছে, সেকথা স্বীকার করে নেন খোয়াজা আসিফ। ক্রমবর্ধমান জল্পনার কথা মাথায় রেখে মঙ্গলবারের ওই বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট জারদারির দপ্তর থেকেও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ, আহসান ইকবাল, আজম নাজির তারার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লা। দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই নেতা একযোগে কাজ চালিয়ে দেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করেছেন। তবে তাতে সোশ্যাল মিডিয়ার জল্পনা থামছে না। সমাজমাধ্যমে চর্চা চলছে— যা রটে কিছুতো বটে!