


ব্যাংকক: ফের যুদ্ধ! সীমান্তে সংঘাতে জড়াল থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দফায় দফায় লড়াই দু’দেশের সেনার। দু’পক্ষের তরফেই চলল গোলাগুলি। কম্বোডিয়ার সেনা পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছে থাইল্যান্ডের যুদ্ধবিমান। পাল্টা থাইল্যান্ডের সুরিন প্রদেশে রকেট হামলা চালায় কম্বোডিয়া। সংঘর্ষে থাইল্যান্ডে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। নিহতদের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ।
থাইল্যান্ড সেনার মুখপাত্র সুরাসান্ত কংসিরি জানিয়েছেন, বুধবার রাতে সীমান্তে কম্বোডিয়ার পাতা ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণে আহত হন ৫ থাই সেনা। এরপরেই কম্বোডিয়া থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে ব্যাংকক। কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতকেও বহিষ্কার করা হয়। সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়। যদিও ল্যান্ডমাইন রাখার কথা মানেনি কম্বোডিয়া।
থাই সেনার দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে তা মোন থম মন্দিরের ওপরে কম্বোডিয়ান ড্রোন দেখা গিয়েছিল। এরপর সেদেশের কয়েকজন সেনা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থাই বাহিনীর পোস্টের কাছাকাছি চলে আসে। তাদের সঙ্গে ছিল গ্রেনেড লঞ্চারও। সকাল ৮টা ২০ নাগাদ মন্দির থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে থাই সামরিক পোস্ট লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে কম্বোডিয়ার সেনা। পাশাপাশি অসামরিক এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি থাইল্যান্ডের। সুরিন প্রদেশে দুটি বিএম-২১ মিসাইল হামলা করা হয়েছে। নিশানা করা হয় একটি হাসপাতালকেও।
জবাবে ৬টি এফ-১৬ বিমান দিয়ে কম্বোডিয়ার সেনা পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছে থাই সেনা। যদিও কম্বোডিয়ার দাবি, থাইল্যান্ডই তাঁদের সেনার ওপর প্রথম হামলা করেছে। সীমান্তের অন্তত ৬টি এলাকায় দুই দেশের সংঘর্ষ চলছে বলে খবর।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশির সীমান্ত বিবাদ পুরনো। ‘পান্না ত্রিভুজ’ (এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গেল) নামে পরিচিত ভূভাগে মিলেছে তিনটি দেশ থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া-লাওস। ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই এলাকায় রয়েছে একাধিক প্রাচীন মন্দির। যার মধ্যে অন্যতম প্রিয়া বিহার নামে হাজার বছরের পুরনো মন্দির। এই মন্দিরের দখল ঘিরেই বারবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে।
১৯০৭ সালে এই মন্দিরকে কম্বোডিয়ার অংশ বলে দেখানো হয় ম্যাপে। তখন ফরাসি উপনিবেশ ছিল দেশটি। পরবর্তীকালে সেটিকে নিজেদের বলে দাবি করে থাইল্যান্ড। ১৯৬২ সালে এই মন্দিরকে কম্বোডিয়ার অংশ বলে রায় দিয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস। তবে তারপরেও দুই সমস্যার নিষ্পত্তি হয়নি।
গত মে মাসে কম্বোডিয়ার এক সেনার মৃত্যু ঘিরে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কম্বোডিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধানকে ফোন কলে ‘কাকু’ ডেকে গদি হারাতে হয় থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পাইটংট্রান সিনাওয়ারাকে।