Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘আমাদের সন্তানকে মারল কে?’ সুরিন্দরের মুক্তিতে প্রশ্ন মৃত কিশোরীর বাবার

সুপ্রিম কোর্টে শেষ মামলাতেও বেকসুর খালাস। জেল থেকে মুক্ত হচ্ছেন নিঠারি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সুরিন্দর কোলি। আদালতের বিচারে একটি খুনেরও দায় তার নয়। তাহলে এতগুলো খুন করল কে? উত্তর খুঁজছে নিহতদের পরিবার।

‘আমাদের সন্তানকে মারল কে?’ সুরিন্দরের মুক্তিতে প্রশ্ন মৃত কিশোরীর বাবার
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে শেষ মামলাতেও বেকসুর খালাস। জেল থেকে মুক্ত হচ্ছেন নিঠারি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সুরিন্দর কোলি। আদালতের বিচারে একটি খুনেরও দায় তার নয়। তাহলে এতগুলো খুন করল কে? উত্তর খুঁজছে নিহতদের পরিবার। 

Advertisement

২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর, নিঠারির ব্যবসায়ী মনিন্দর সিং পান্ধেরের বাড়ির পিছনের নর্দমা থেকে উদ্ধার হল আট শিশুর কঙ্কাল। সেই সময় কোলি ছিলেন ওই বাড়ির চাকর। কঙ্কালগুলি পরীক্ষা করে পরিচয় জানা যায়। নৃশংসভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছিল। সন্তানের এমন নির্মম পরিণতি মেনে নিতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যান। তবে পেটের দায়ে এখনও নিঠারিতেই রয়েছেন ঝাব্বুলাল ও তাঁর স্ত্রী সুনীতা। নিহতদের মধ্যে ছিল তাঁদের পঞ্চম সন্তান জ্যোতি। সেদিনের কথা আর মনে করতে চান না ঝাব্বুলাল। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায় মানতে পারেননি।  তাঁর প্রশ্ন, যদি ওরা দোষী না হয়, তাহলে আমাদের মেয়েকে কে মারল? এত বছর ওদের জেলে রাখা হল কেন? ন্যায় বিচারের জন্য টানা দুদশক  লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন ঝাব্বুলাল। তাঁর মতো সাধারণ ইস্ত্রিওয়ালার পক্ষে এই লড়াই মোটেও সহজ ছিল না। জমি বিক্রি করেছেন, চড়া সুদে টাকা ধার করেছেন, তাও কিছুই হল না। অসহায় পিতার এখন একটাই আর্জি,  কেবল ভগবানই সাহায্য করতে পারেন। স্থানীয়রাও এই রায় মানতে পারেছেন না। তাঁদের কথায়, এত বছর পরও এলাকায় আতঙ্ক রয়ে গিয়েছে। 
ভয়ে এলাকায় শিশুরা খেলতে বেরোয় না। ঝব্বুলালের মতো আরও এক নিহত শিশুর পরিবার নিঠারিতেই থাকেন। তাঁরা অবশ্য নারকীয় ঘটনা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে কোলির জেলমুক্তির ঘোষণা পুরনো ক্ষত আবার উন্মুক্ত করে দিল বলেই মনে করছেন ঝাব্বুলাল। তাঁর আক্ষেপ, মনে হচ্ছে যেন আমাদের সন্তান কোনওদিন ছিলই না। এদিকে, কোলির জেলমুক্তি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। গত ২ বছর গৌতম বুদ্ধ নগরের লুক্সর জেলে বন্দি ছিলেন কোলি। সেখানে তাঁর স্ত্রী ও ছেলে নিয়মিত দেখা করতে যেতেন। জেলসূত্রে জানা গিয়েছে শীঘ্রই মুক্তি পাচ্ছেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ