সংবাদদাতা, মালদহ: এক ধাক্কায় ৬০ টাকা দাম বেড়েছে রান্নার গ্যাসের। তাতে গাঁটের কড়ি বাড়তি খরচ হচ্ছে সাধারণ মানুষের। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে উদ্বেগও। এরপরেও নির্দিষ্ট সময়ে জ্বালানি গ্যাস মিলবে কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক গৃহস্থ। উদ্বিগ্ন উপভোক্তাদের ফোন যাচ্ছে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে।
পাশাপাশি, যাঁরা দাম বাড়ার আগে সিলিন্ডার বুক করেছিলেন, তাঁদেরও দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত মূল্য। ক্ষোভ রয়েছে তা নিয়েও।
২১ দিনের আগে সিলিন্ডার বুকিং করা যাবে না বলে যে নির্দেশিকা এসেছিল, তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৫ দিন। ফলে কপালে ভাঁজ পড়েছে জ্বালানি গ্যাস ব্যবহারকারীদের।
ইংলিশবাজারের তালতলা এলাকার বাসিন্দা পূজাশ্রী বোস বলেন, ২০ দিন আগে সিলিন্ডার বুক করেছিলাম। বাড়িতে আত্মীয়স্বজন আসায় গ্যাস ফুরিয়ে গিয়েছে সময়ের আগে। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে ২৫ দিনের আগে সিলিন্ডার বুক করা যাবে না। বাধ্য হয়ে ইনডাকশন ওভেনে রান্না করতে হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির পরেও সিলিন্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে এই সমস্যা চরম অসুবিধায় ফেলছে। প্রায় একই বক্তব্য ইংলিশবাজারের ২ নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনির বাসিন্দা ভাস্বতী সেনগুপ্তর। তাঁর কথায়, আগে বুকিং করার দু’দিনের মধ্যেই সিলিন্ডার পেতাম। এবার প্রায় পাঁচদিন পরে এসেছে। যখন সিলিন্ডার বুকিং করেছি, তখন যা দাম দেখিয়েছিল এখন তার চেয়ে বেশি দাম দিতে হবে। তাছাড়া সময়ে রান্নার গ্যাস পাব কিনা, তা নিয়েও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি।
উত্তরবঙ্গ এবং সিকিম এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সোমেশচন্দ্র দাস বলেন, নিয়ম মেনে উপভোক্তাদের কাছে বুকিং অনুযায়ী রান্নার গ্যাস পৌঁছে দিচ্ছি। কিন্তু তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে বুঝতে পারছি।
অনেকে রাতবিরেতে ফোন করে জানতে চাইছেন সিলিন্ডার পেতে কতটা দেরি হবে। কেউ আবার চলেও আসছেন। যাঁদের বাড়িতে এখনো রয়েছে, তাঁরাও অতিরিক্ত সিলিন্ডার চাইছেন। সবাইকেই বুঝিয়ে বলছি তাঁদের সিলিন্ডার সরবরাহ করব নিয়ম মেনেই।
বর্ধিত মূল্য প্রসঙ্গে সোমেশ বলেন, পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি হলে ডেলিভারির সময়ের দামই প্রযোজ্য। একটি সিলিন্ডার হাতে পাওয়ার ২৫ দিন পর নতুন বুক করার নতুন নিয়ম আপাতত চালু রয়েছে।
সাধারণ মানুষের বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধ চলছে, তা নিয়ে সবাই চিন্তায় রয়েছেন। কারণ ভারত অংশ না নিলেও যুদ্ধের আঁচ যে রান্নাঘরে পড়তে শুরু করেছে, তা স্পষ্ট।