


শুভ্রজ্যোতি সেনগুপ্ত, আবুধাবি: দু’দিন ধরে জীবনের প্রতি মায়া যেন বেড়ে গিয়েছে! যে পরিস্থিতিতে আবুধাবিতে রয়েছি, তাতে মনের অবস্থা এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক। যে জীবনযুদ্ধ উপস্থিত হয়েছে, তাতে অধিকাংশ মানুষেরই প্রাণ ওষ্ঠাগত। কদিন ধরে মাথার উপর যেসব কাণ্ডকারখানা দেখছি, তা ভয়ংকর। উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে, জানি না। তবে সেইদিনেরই প্রতীক্ষায় আছি। কদিন আগেও কিছু বোঝা যায়নি। আচমকাই পরিস্থিতি পালটে গেল! বলতে গেলে ওয়ার জোনে বসে আছি!
আমার বাড়ি উত্তর দমদমের বিরাটিতে। কর্মসূত্রে আবুধাবিতে আছি ন’বছর। এমন পরিস্থিতি সম্মুখীন হতে হবে যে কল্পনাও করিনি। দেশের বাড়িতে পরিবারের লোকেরাও চিন্তিত। এখানে ঘন ঘন মোবাইলে অ্যালার্ট আসছে। কাজকর্ম প্রায় চুলোয়। দুশ্চিন্তা, আতঙ্ক, উৎকণ্ঠায় জীবন কাটছে। স্থানীয় প্রশাসন সার্কুলার জারি করে বলেছে, ‘রিমোট ওয়ার্ক’ করতে হবে। ব্যাপারটা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ গোছের। ওপেন এরিয়ায় কাজকর্ম সব বন্ধ। বন্ধ স্কুল-কলেজ। গণপরিবহণ তেমন নেই। আংশিক চলছে। রাস্তাঘাটে লোকজনও কম। খুব প্রয়োজন ছাড়া বেরোতে মানা। অবস্থা বেশ খারাপ। মাথার উপরে মিসাইল ফাটছে, ড্রোন উড়ছে। ঘরবাড়ি রীতিমতো কাঁপছে। ঘুম উড়ে গিয়েছে। সকলেই দিশেহারা। চোখের সামনে ড্রোন, মিসাইল ইন্টারসেপ্ট হতে দেখছি। ভয়াবহ অভিজ্ঞতা! মাঝেই মাঝেই ফোনে অ্যালার্ট আসছে। কিছু সময় পর পরই আকাশে ফাইটার জেটের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ফোনে বিভিন্ন খবর দেখছি আর আতঙ্ক বাড়ছে। যদিও স্থানীয় অথরিটি গাইডলাইন দিয়েছে, যাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ায়।
সকলেই খাবার-দাবার স্টক করে নিয়েছে। আমিও আপাতত দিনসাতেকের খাবার জোগাড় করে রেখেছি। বেশকিছু শপিং মল অবশ্য এখনো খোলা। কিন্তু কতদিন আর? এভাবে চলতে থাকলে বিপদ আরো বাড়বে। আমাদের এখানে অবস্থা সঙ্গীন হবে আরো। খাবারদাবারের সমস্যা শুরু হবে বলেই মনে হয়।
(লেখক আবুধাবিতে কর্মরত)