


গাজিয়াবাদ: নোরা ফতেহির মতো চেহারা চাই। সেজন্য স্বামীর নির্দেশ মেনে প্রতিদিন ঘণ্টা তিনেক জিম করতে হতো স্ত্রীকে। নড়চড় হলে দিনের পর দিন স্ত্রীকে খেতেও দিতেন না স্বামী। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের এক মহিলা এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। থানায় স্বামী শিবম উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। শ্বশুর,শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে পণের জন্য অত্যাচারের অভিযোগও এনেছেন সাংভি (২৬) নামে ওই মহিলা ।
সাংভির অভিযোগ, তাঁর স্বামী সমাজমাধ্যমে অন্য মেয়েদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দেখতেন। প্রতিবাদ করলে জুটত শারীরিক নির্যাতন। শিবম প্রায়ই বলতেন, ‘তোমায় বিয়ে করে আমার জীবন ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আমি নোরা ফতেহির মতো কাউকে বিয়ে করতে পারতাম।’ জানা গিয়েছে, শিবম পেশায় সরকারি স্কুলের শিক্ষক।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে ওই দম্পতির বিয়ে হয়। সাংভির দাবি, বিয়েতে অন্তত ৭৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল। যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়েছে অলঙ্কার, ১০ লক্ষ টাকা নগদ ও ২৪ লক্ষ টাকার গাড়ি। অভিযোগ, তারপরেও পণের জন্য তাঁর উপর চাপ দিত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এমনকি স্বামীর সঙ্গে তাঁকে একান্তে সময় কাটাতে দেওয়া হত না বলেও অভিযোগ করেছেন সাংভি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকমাস আগে সাংভি সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েছিলেন। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে ওষুধ খাইয়ে জোর করে তাঁর গর্ভপাত করানো হয়। এরপর সাংভি বাপের বাড়িতে চলে গেলে তাঁকে আর ফেরাতে চায়নি শিবমের পরিবার। তাঁকে বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি সাংভিকে তাঁর পোশাক ও অলঙ্কারও ফেরত দিতে চাননি শিবমরা। শেষ পর্যন্ত গত ১৪ আগস্ট থানায় শিবম ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন সাংভি।