Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬

বিষাদের আঁধারে ‘বিরাট’ জয়োৎসব, বেঙ্গালুরুতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১১

‘ই সালা কাপ নামদে... কোহলি কোহলি!’ ১৭ বছরের অপেক্ষা শেষের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। আইপিএল ট্রফি জয়ের উন্মাদনা বুধবার বাঁধনছাড়া হয়ে আছড়ে পড়েছিল চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে।

বিষাদের আঁধারে ‘বিরাট’ জয়োৎসব, বেঙ্গালুরুতে পদপিষ্ট হয়ে  মৃত ১১
  • ৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বেঙ্গালুরু: ‘ই সালা কাপ নামদে... কোহলি কোহলি!’ ১৭ বছরের অপেক্ষা শেষের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। আইপিএল ট্রফি জয়ের উন্মাদনা বুধবার বাঁধনছাড়া হয়ে আছড়ে পড়েছিল চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। সেলিব্রেশনের জন্য স্টেডিয়ামের গেট খোলামাত্র অসংখ্য মানুষ ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। পরিস্থিতি সামলাতে বলপ্রয়োগ করে পুলিস। তাতেই হল বিপত্তি। বিরাটদের ‘জয়োৎসব’ মুহূর্তে বদলে গেল বিষাদে। হুড়োহুড়ির জেরে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন ১১ ক্রিকেটপ্রেমী। আহতের সংখ্যা শতাধিক। স্টেডিয়ামের ভিতরে তখনও নাচে গানে বিজয়োৎসবে ব্যস্ত কোহলিরা। বাইরে রাস্তাতেই শুইয়ে সিপিআর থেকে আহতদের বুকে নিয়ে পুলিস কর্মীদের দৌড়— শিউরে ওঠার মতো একাধিক দৃশ্যের সাক্ষী রইল বেঙ্গালুরু। স্বাভাবিকভাবেই বুধবারের মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশ্নের মুখে কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার। শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা অর্থসাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসাও হবে বিনামূল্যে।

Advertisement

এদিন  বিশেষ বিমানে দুপুর দেড়টায় আমেদাবাদ থেকে বেঙ্গালুরু পৌঁছান চ্যাম্পিয়নরা। তারপর চ্যাম্পিয়নদের সংবর্ধনা দিতে নিয়ে যাওয়া হয় বিধান সৌধ বা রাজ্য বিধানসভা ভবনে। দুপুর থেকেই বিধানসভা থেকে স্টেডিয়ামের বাইরে পা রাখার জায়গা ছিল না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিস কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি। ভিক্ট্রি প্যারেড বাতিল করা হয়। টিম বাসেই স্টেডিয়ামে পৌঁছয় গোটা টিম। কোনওক্রমে ঠেলেঠুলে চ্যাম্পিয়নদের ঢুকিয়ে বন্ধ করে দেওয়া মেইন গেট। কোহলিদের দেখার জন্য আট থেকে আশি— সকলেই হুমড়ি খেয়ে পড়েন স্টেডিয়ামের মূল ফটকে। অনেকেই ব্যারিকেড টপকে ঢোকার চেষ্টা করেন। তা দেখে পুলিস মৃদু লাঠিচার্জ করে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। ফলে হুড়োহুড়িতে অনেকে মাটিতে পড়ে পদপিষ্ট হন। প্রথমে জানা যায়, মারা গিয়েছেন তিন জন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১। বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘বাইরের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানত না আরসিবি কর্তৃপক্ষ। তারা জানার পরেই অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করা হয়।’ রাত ১০টার পর টিমের এক্স হ্যান্ডলে শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া বলেন, ‘স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যা মাত্র ৩৩ হাজার। কিন্তু দু’-তিন লক্ষ মানুষ ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। তাতেই এই ঘটনা। আমি শোকাহত।’ ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। যদিও লাঠিচার্জ হয়নি বলেই দাবি উপ মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমারের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ