নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে রেশন গ্রাহকদের খাদ্য সরবরাহের খরচ বাবদ প্রাপ্য প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজ্য সরকারকে এখনও মেটায়নি কেন্দ্র। কিন্তু রেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য নিয়মিত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ অব্যাহত আছে। এর জন্য গত বছরই রেশন ব্যবস্থা পরিচালন বিধি সংশোধন করেছে কেন্দ্র। কত সংখ্যক নতুন রেশন কার্ড হল এবং কত কার্ড বাতিল হল, তার তথ্য তিন মাস অন্তর জানাতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী রেশন গ্রাহকদের বণ্টন সংক্রান্ত বার্ষিক ইউটিলাইজেশান সার্টিফিকেট (ইউসি) কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠাতে হবে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট আরও কিছু তথ্য রাজ্য সরকারগুলিকে দিতে বলা হয়েছে।
এই সব তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারকে পাঠানোর জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য খাদ্যদপ্তর। প্রয়োজনীয় তথ্য এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে ডিরেক্টর (রেশনিং) সহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পাঠাতে বলা হয়েছে। রেশন কার্ড ও খাদ্য বণ্টন সংক্রান্ত রিপোর্ট ছাড়াও ভিজিল্যান্স কমিটির কাজ ও জমা পড়া অভিযোগগুলির ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তার তথ্য পাঠাতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। রেশন দোকানে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া নিয়েও রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার নির্ধারিত ফর্ম্যাটে নির্দিষ্ট সময়কালীন রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে রাজ্যকে। রাজ্যগুলি যাতে কেন্দ্রীয় সরকারকে তথ্য দিতে বাধ্য হয়, তার জন্য খাদ্যমন্ত্রক
২০২৪ সালে ‘টার্গেটেড পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম কন্ট্রোল’ অর্ডারটি সংশোধন করে। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ওই বছরের জানুয়ারি মাসে জারি করা হয়। রেশন ব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারগুলিকে কী কী দায়িত্ব পালন করতে হবে, তা এখানে বলা হয়েছিল। সেইমতো রাজ্য সরকার যাবতীয় তথ্য সময়মতো পাঠানোর জন্য উদ্যোগী হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কবে রাজ্যের প্রাপ্য টাকা মেটাবে, সেটাই এখন রাজ্য খাদ্যদপ্তরের শীর্ষকর্তাদের মূল চিন্তার বিষয়। রেশন গ্রাহকদের যে চাল সরবরাহ করা হয়, সেই বাবদ খরচের পুরোটাই রাজ্য সরকারের প্রাপ্য। কারণ, কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্য কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে চাল উৎপাদন করে রেশন গ্রাহকদের সরবরাহ করে।