


কারাকাস: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনতে ‘সনিক ওয়েপন’ ব্যবহার করেছিল মার্কিন সেনাবাহিনী। সেই অত্যাধুনিক অস্ত্রের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি মাদুরোর ব্যক্তিগত বাহিনী। শব্দ-অস্ত্রের অভিঘাতে সেনার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। অনেকে রক্তবমিও করেন বলে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। গত ৩ জানুয়ারির সেই অপারেশনের পর এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তুলে আনা নিয়ে বিতর্ক কাটছে না কিছুতেই। এই অবস্থায় মার্কিন সেনার উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্রের কেরামতি সামনে এল। তবে সনিক অস্ত্রের ব্যবহারের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে এ নিয়ে প্রশ্ন করার মুহূর্তেই তিনি থেমে যেতে বলেন প্রশ্নকর্তাকে।
উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করে মাদুরোকে শয়ন কক্ষ থেকে তুলে আনা হয়েছে। বুক বাজিয়ে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাফল্যের মুগ্ধতা কিছুতেই কাটছে না আমেরিকার। তাই শনিবার এক্স হ্যান্ডেলে ক্যারোলিন ‘অপারেশন মাদুরো’ প্রসঙ্গে বলেন, মার্কিন বাহিনীর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ভেনেজুয়েলার রেডার সিস্টেম বিকল হয়ে যায়। এরপর মাদুরোর প্রাসাদে নেমে আসে মার্কিন ড্রোন। সবচেয়ে আশ্চর্যের, এসব দেখেও কিছু করতে পারেননি মাদুরোর বাহিনী। এ প্রসঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রাসাদে উপস্থিত থাকা এক সেনা বলেন, ‘এসব দেখে হতভম্ব হয়ে যাই। আমাদের কী করা উচিত, বুঝতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংখ্যায় আমরা কয়েকশো জন ছিলাম। তবে ওরা এত দক্ষতা এবং দ্রুততার সঙ্গে গুলি চালাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল প্রতি মিনিয়ে ৩০০ রাউন্ড গুলি চলছে। আমাদের কাছে কোনও সুযোগ ছিল না।’ এর পরেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘একটা সময় ওরা এমন কিছু ব্যবহার করতে থাকল, তা বর্ণনা করা সম্ভব নয়। মনে হচ্ছিল তীব্র শব্দতরঙ্গ বয়ে যাচ্ছে। মনে হল, যেন আমার মাথার ভিতরেই বিস্ফোরণ ঘটবে।’
এত কিছুর পরেও ভেনেজুয়েলা দখলের মার্কিন স্বপ্ন অধরা থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সৌজন্যে ডেলসি রডরিগেজ। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ডেলসিই এখন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি সাফ জানিয়েছেন, মার্কিন অভিযান একটি কলঙ্ক। শনিবার তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা শাসন করবেন এ দেশের মানুষই। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেও দেশবাসীকে শান্তি ও একতা বজায় রেখে স্থিতিশীল থাকতে বলেছেন তিনি। মার্কিন বিড়ম্বনার এখানেই শেষ নয়। ভেনেজুয়েলায় শুরু হয়েছে মার্কিনিদের ধরপাকড়ও। রাস্তা আটকে গাড়ি দাঁড় করিয়ে মার্কিনিদের চিহ্নিত করতে শুরু করেছে সরকারপন্থী আধা সামরিক বাহিনী ‘কালেকটিভস’। আতঙ্ক এতটাই বেড়েছে যে, মার্কিন নাগরিকদের ভেনেজুয়েলা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন।