নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শত চেষ্টাতেও মিলছে না ট্রেনের কনফার্মড টিকিট! তাই কি রেল যাত্রীদের একটি বড় অংশ ঝুঁকছেন তুলনায় অস্বাচ্ছন্দ্যের অসংরক্ষিত ক্লাসের দিকে? রেলমন্ত্রকের তরফে প্রাপ্ত তথ্য ঘিরে শুরু হয়েছে এমনই জল্পনা। জানা গিয়েছে, গত পাঁচ বছরে সারা দেশে ট্রেনের অসংরক্ষিত শ্রেণিতে যাত্রী বেড়েছে প্রায় সাত গুণ। ২০২০-২১ আর্থিক বছরে জেনারেল এবং অসংরক্ষিত শ্রেণিতে রেল যাত্রীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৯ কোটি। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬৫১ কোটি। যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে আপাতত তাই জেনারেল কোচ উৎপাদনে বেশি জোর দিচ্ছে রেলমন্ত্রক।
গত বুধবার লোকসভায় এই বিষয়ে লিখিত প্রশ্ন করেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ দারোগাপ্রসাদ সরোজ। তারই লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই পরিসংখ্যান সংসদে পেশ করেছেন। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে দূরপাল্লার বিভিন্ন মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনে ১ হাজার ২৫০টি জেনারেল কোচের বন্দোবস্ত করতে হয়েছে। পরবর্তী পাঁচ বছরে আরও প্রায় ১৭ হাজার নন-এসি কোচের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জেনারেল কোচ যেমন রয়েছে, তেমনই স্লিপার কামরাও আছে। রেলমন্ত্রী আরও জানান, এই মুহূর্তে রেলের মোট ৮২ হাজার ২০০টি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ হাজার ২০০টিই জেনারেল এবং স্লিপার (নন-এসি) কোচ। অর্থাৎ, মোট কোচের ৭০ শতাংশই নন-এসি বা জেনারেল। যেহেতু এহেন কোচের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই কারণে একটি ২২ কোচের মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেনে ১২টি কোচই নন-এসি স্লিপার ও জেনারেল কোচ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক। এসি কোচ রাখা হবে আটটি।
সংরক্ষিত শ্রেণিতে টিকিট না পাওয়ায় ট্রেনের জেনারেল কোচে ভিড় বাড়ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। এই প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রকের লিখিত জবাবে কোনও উল্লেখ করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক একটি আরটিআইয়ের জবাবই ট্রেনের কনফার্মড টিকিট না পাওয়ার ক্রমবর্ধমান চিত্রটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা চন্দ্রশেখর গৌড়ের ওই আরটিআইয়ের জবাবে মন্ত্রক জানিয়েছে, কনফার্মড না হওয়ায় ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে দেশে মোট ২ কোটি ৯৬ লক্ষ যাত্রীর টিকিট বাতিল (অটো ক্যানসেলড) হয়েছে। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩ কোটি ৩২ লক্ষ।