


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সদ্য রোজগার মেলার আয়োজন করেছে মোদি সরকার। ঘোষণা করা হয়েছে, দেশজুড়ে হাজার হাজার কর্মসংস্থান হচ্ছে। সম্প্রতি কর্মসংস্থান ভিত্তিক উৎসাহ ভাতা প্রদান (ইএলআই স্কিম) কর্মসূচির অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দু’বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কি কর্মসংস্থান নিয়ে এহেন ঢক্কানিনাদের প্রায় পুরোটাই রয়ে যাচ্ছে কাগজে-কলমে? আপাতত এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তীব্র জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এপ্রিল, মে এবং জুন—এই তিন মাসে দেশের গ্রামাঞ্চল এবং শহুরে এলাকায় লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে বেকারত্বের হার। প্রধানত ১৫-২৯ বছর বয়সিদের মধ্যেই এই বেকারত্বের হার সবথেকে বেশি।
কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের বিগত জুন মাসের পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভের (পিএলএফএস) রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, ‘রুরাল’ এবং ‘আর্বান’ মিলিয়ে গত এপ্রিল মাসে সারা দেশে ১৫-২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে এই বেকারত্বের হার ছিল ১৩.৮ শতাংশ। মে মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৫ শতাংশ। জুন মাসে তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫.৩ শতাংশে। মহিলাদের ক্ষেত্রে এই বেকারত্বের হার বিগত তিন মাসে ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে যথাক্রমে ১৪.৪ শতাংশ, ১৬.৩ শতাংশ এবং ১৭.৪ শতাংশ। পুরুষদের ক্ষেত্রে তা যথাক্রমে ১৩.৬ শতাংশ, ১৪.৫ শতাংশ এবং ১৪.৭ শতাংশ। ১৫ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সিদের বেকারত্বের হার নিয়ে প্রকাশিত খতিয়ান উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের তথ্য বলছে, এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৫.১ শতাংশ। গত মে এবং জুন মাসে এই হার ছিল ৫.৬ শতাংশ। যা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, সার্বিকভাবে দেশে বেকারত্বের পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, শুধু শহুরে এলাকায় ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে বেকারত্বের পরিস্থিতি গ্রামাঞ্চলের থেকেও খারাপ। স্বাভাবিকভাবেই এহেন খতিয়ানকে রীতিমতো উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল।