


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এক বছর জোট নিয়ে নির্বিঘ্ন যাত্রার পর বিহার ভোটের আগে জোটশরিকদের চাপে প্রবল চাপে বিজেপি। কয়েকদিন আগেই বিহারে এনডিএ জোটের শরিক রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার সুপ্রিমো উপেন্দ্র কুশওয়া নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন নিয়ে সুর চড়িয়েছেন। এবার বিদ্রোহের আভাস দিলেন চিরাগ পাসোয়ানও। রবিবার সারানের এক সভা থেকে তিনি বলেছেন, ‘২৪৩ আসনেই আমি লড়ব!’ এখানেই থেমে না থেকে নীতীশ কুমারের দলের দিকেই আঙুল তুলে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিহারে এবার প্রার্থী হই এটা অনেকে চাইছে না। আমাকে আটকাতে প্রবল চক্রান্ত হচ্ছে।’
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চিরাগ প্রথম থেকেই নীতীশ কুমারের বিরোধী। জোটের বাধ্যবাধকতায় তিনি নিজেকে অনেক নিয়ন্ত্রিত করে রাখলেও এবার বিহার ভোটের আগে ফের স্বরূপ ধারণ করছেন। সোমবার বিজেপি নেতা শাহনওয়াজ হোসেন বলেছেন, ‘বিহারে আসন সমঝোতার কাজ শুরু হয়নি। শীঘ্রই হবে। আশা করা যায়, তখনই সব স্পষ্ট হবে।’ সংযুক্ত জনতা দলের কে সি ত্যাগী বলেন, ‘উনি আসলে বলতে চেয়েছেন, বিহারের সমস্ত আসনেই হয়তো এনডিএ জোটের সব দল লড়বে। ওটা আসলে জোটবার্তা।’ তবে সংযুক্ত জনতা দল নিজেদের ভাগের আসন কমাবে না বলেও জানিয়েছে। এর পরেই চিরাগ জোট ছাড়বেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, ভোটের আগে এমন নানা জল্পনা ছড়ালেও আদতে কিছুই হবে না। উপেন্দ্র কুশওয়া, চিরাগ পাসোয়ানরা প্রেশার পলিটিক্স করছেন। আসলে এটা বিজেপিকে চাপে রেখে বেশি আসন আদায়ের একটি স্ট্র্যাটেজি। আর চিরাগের এই দাবির কারণও আছে। তিনি ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে পাঁচটি আসনে লড়াই করেন। সবক’টি আসনেই জয়ী হন। এবার তিনি সেই সাফল্যের পুরস্কার চান। অর্থাৎ বিধানসভায় আরও বেশি আসন। কিন্তু কার আসন ছেঁটে তাঁকে দেওয়া হবে? তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা। নীতীশ কুমারের দল মোদি সরকারের প্রাণভোমরা। সুতরাং তাঁকে রুষ্ট করা সম্ভব নয়। অতএব এবার বিজেপি নিজেই কম আসনে লড়াই করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। রাজনীতির কারবারিদের মতে, মাত্র এক বছরের মধ্যেই বদলে গিয়েছে এনডিএ জোটের চরিত্র এবং প্রকৃতি। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি একক গরিষ্ঠতার সরকার চালিয়েছে কেন্দ্রে। কোনও জোটেরই সমর্থন প্রয়োজন পড়েনি। এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত লোকসভা নির্বাচনে মাত্র ২৪০ আসনে বিজেপির জয়ের রথ থেমে যায়। তার পর থেকেই জোটশরিকদের উপরই নির্ভরশীল মোদি সরকার। আর সেই কারণে লোকসভা ভোটের আগে বিহারে আসন বন্টন নিয়ে বিজেপি একক সিদ্ধান্ত বজায় রাখলেও বিধানসভা ভোটে আসন সমঝোতা নিয়ে সঙ্কটে মোদির দল। কারণ এবার আর বিজেপির কথাই শেষ কথা হবে না। জোট শরিকদের সন্তুষ্টও রাখতে হবে।