


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ঠিক এক মাস আগে নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দাবি করেছিল, মূল্যবৃদ্ধির হার কমতে কমতে এখন ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সেই দাবির সঙ্গে অবশ্য আম জনতার অভিজ্ঞতার তেমন সাদৃশ্য ছিল না। যদিও সাধারণ রীতি হল, মূল্যবৃদ্ধির হার কমার আভাস পেলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেটে কাটছাঁট করে। কিন্তু গত ১২ আগস্ট নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকের পর রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা সেই পথে হাঁটেননি। সেটাই ছিল পরোক্ষ ইঙ্গিত যে, মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত গতিপ্রকৃতির বদল ঘটতেও পারে। অর্থাৎ, নিত্যপণ্যের দাম আবার বেড়েও যেতে পারে। সেই কারণেই সতর্ক নীতি নির্ধারণ কমিটি রেপো রেট কমায়নি। ঠিক তাই হল। এবার খোদ কেন্দ্রের পাইকারি পণ্য সূচকের রিপোর্টেই সোমবার জানিয়ে দেওয়া হল, আগস্ট থেকে নিত্যপণ্য, খাদ্য-বস্ত্র সহ একঝাঁক সাধারণ পণ্যের দাম বাড়ছে। সরকারি রিপোর্ট যেদিন প্রকাশিত হল, তার মাত্র ৭ দিন পর চালু হচ্ছে নয়া জিএসটি কাঠামো। অর্থাৎ দেশবাসী যখন আশা করে বসে আছে জিএসটি কমবে, তার এক সপ্তাহ আগেই তাঁরা আবিষ্কার করছেন, নানাবিধ পণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছে। এবং সেটা হয়েছে উৎসবের মরশুমেই। সুতরাং জিএসটি হ্রাসে যতটা সুরাহা মিলবে বলে আম আদমি আশা করেছিল, সেখানেও ধাক্কা লাগছে।
এতদিন পাইকারি মূল্য সূচক ছিল ঋণাত্মক ধাপে। সেটাই উঠে এসেছে ০.৫২ শতাংশে। স্বাভাবিক নিয়মে যা আরও বড় প্রভাব ফেলবে খুচরো পণ্যে। অর্থাৎ খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হারও বাড়ছে দ্রুত। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ হল, সরকার নাকি কড়া নজর রাখছে, যাতে জিএসটি কমে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ী ও পণ্য উৎপাদকরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে না পারে? কিন্তু সেই ঘোষণায় যে কোনও সুফল মেলেনি, তা স্পষ্ট। কারণ সরকারি রিপোর্টে সেই তালিকায় একবার চোখ বোলালেই বোঝা যাবে—এমআরপি না বাড়ালে এই দাম বৃদ্ধি সম্ভব নয়। যদিও সরকারি রিপোর্টে এমআরপির বৃদ্ধির কথা স্বীকার করা হয়নি। কিন্তু আদতে অস্বীকার করারও উপায় নেই। কারণ, ক্রমবর্ধমান মূল্যের তালিকায় রয়েছে, খাদ্যপণ্য, নিত্যপণ্য, টেক্সটাইল, বৈদ্যুতিন যন্ত্র, উপকরণ, পরিবহণ সংক্রান্ত যন্ত্র ও উপকরণ, নন মেটালিক খনিজ পণ্য ইত্যাদি। প্রাত্যহিক রান্নাঘরের খাদ্যসামগ্রী ছাড়া এই যে তালিকাভুক্ত পণ্যগুলির দাম বেড়েছে, সেগুলি এমআরপি না বাড়লে সম্ভব নয়। কারণ এর কোনওটাই বাজারে কেজি দরে কিনতে পাওয়া যায় না। লক্ষণীয়, মূলত যে পণ্যগুলির জিএসটি কমেছে, সেগুলির দামই ক্রমর্ধমান। আবার অন্যদিকে, টেক্সটাইল এবং ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের উৎপাদন, রপ্তানি, বাণিজ্য সবথেকে বেশি ধাক্কা খেয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের সৌজন্যে। কারণ এই পণ্যগুলিই সবথেকে বেশি যায় আমেরিকায়। বৃদ্ধির খাতায় আর রয়েছে রত্ন এবং অলঙ্কার। এই পণ্যও সবথেকে বেশি যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। আর বেছে বেছে এইসব পণ্যের দামই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দেশীয় বাজারে। অর্থাৎ জনতার থেকেই লোকসানের কড়ি উশুলে তৎপর বাণিজ্যজগৎ!