


অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: বাতাসে আসন্ন শীতের আমেজ। আর ক’দিন পরেই কালীপুজো, দীপাবলি। তার আগে উৎসবের ঢেউ আছড়ে পড়ল ময়দানে। আগামী শনিবার আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে বাংলার আবেগের বড় ম্যাচ। আগেই শিরোপা নির্ণায়ক ম্যাচের টিকিট পাকা করেছিল ইস্ট বেঙ্গল। বুধবার ফাইনালের ছাড়পত্র আদায় করল মোহন বাগান। কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ইউনাইটেড স্পোর্টসকে ২-০ ব্যবধানে হারাল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। লক্ষ্যভেদে সফল দিমিত্রি পেত্রাতোস ও জেসন কামিংস। তবে ম্যাচ জিতলেও মন ভরাতে ব্যর্থ হোসে মোলিনা বাহিনী। সঙ্গে দোসর বিক্ষোভ। শুরু থেকে গ্যালারিতে ব্যানার ও ম্যানেজমেন্টের উদ্দেশ্য করে চলল স্লোগান। ম্যাচ শেষে তা রণক্ষেত্রের আকার নিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠি চালায় পুলিশ। মাথা ফাটল এক মহিলা সমর্থকের। এই প্রসঙ্গে মোহন বাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেন, ‘সমর্থকরা ক্লাবের সম্পদ। ডার্বির আগে আমরা ক্লাবে ওদের সঙ্গে আলোচনায় বসব।’ সচিব সৃঞ্জয় বসু বলেন, ‘সমর্থকদের আঘাত করা মানে আমায় আঘাত করা।’ অন্যদিকে, আইএফএ’কে চিঠি দিয়ে ঘটনার রিপোর্ট চেয়েছে সবুজ-মেরুন ম্যানেজমেন্ট। পাশাপাশি ফুটবলারদের সুরক্ষার আর্জিও জানিয়েছে তারা। পাল্টা আইএফএ সচিব বলেন, ‘আমরা গোটা দলকে টিম বাসে আনার কথা বলেছিলাম। কিন্তু মোহন বাগান ম্যানেজমেন্ট আলাদা আলাদা গাড়িতে আনে। তবে ফাইনালের আগে অবশ্যই এই দিকটা নজর দেওয়া হবে।’
একাধিক চমক দিয়ে এদিন প্রথম একাদশ সাজিয়েছিলেন বাগান কোচ মোলিনা। দুর্গরক্ষার দায়িত্বে জাহিদ। শুরু থেকে সুযোগ পান দিমিত্রি। এছাড়া মিডফিল্ডে অভিষেক সূর্যবংশীর সঙ্গী হিসেবে জুড়ে দিয়েছিলেন টংসিনকে। কিন্তু রবসন উইংয়ে চলে যাওয়ায় মাঝমাঠের সেই ঝলক উধাও। সেই জায়গায় খেলা কামিংসের স্কোয়ার পাসে ভেদশক্তির অভাব স্পষ্ট। তাই খেলাই তৈরি হল না মোহন বাগানের। তার ফায়দা নিল ইউনাইটেড। বিদ্যুতের ঝলকানির মতো মাঝে মাঝে ঝলসে উঠল কলকাতা লিগের দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত সবুজ-মেরুন ডাগ-আউটে স্বস্তি ফেরালেন দিমি। প্রথমার্ধের শেষলগ্নে বাঁ প্রান্ত থেকে করা কামিংসের মাইনাস জালে জড়ান তিনি (১-০)।
বিরতির পর টমের বদলে আলবার্তো মাঠে নামতে রক্ষণ কিছুটা হাফ ছেড়ে বাঁচল। এই পর্বে ব্যবধানও বাড়িয়ে নেয় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। কামিংসের শট ইউনাইটেড ডিফেন্ডার অঙ্কনের গায়ে লেগে জালে ধাক্কা খায় (২-০)। বাকি সময় ডার্বির পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেরে নিলেন কোচ মোলিনা। জাতীয় দল থেকে ফেরা সুহেল ও দীপ্যেন্দুকে মাঠে নামান তিনি। এছাড়া ম্যাকলারেন এবং অনিরুদ্ধ থাপাকেও ম্যাচ টাইম দিলেন স্প্যানিশ কোচ। অজি বিশ্বকাপারের নিশ্চিত গোল বাতিল না হলে আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারত মোহন বাগান। তবে ম্যাচ হারলেও এদিন দুরন্ত লড়াই উপহার দিল ইউনাইটেড স্পোর্টস।
মোহন বাগান: জাহিদ, অভিষেক, মেহতাব (দীপ্যেন্দু), আলড্রেড (আলবার্তো), আশিস, অভিষেক সূর্যবংশী, টংসিন (অনিরুদ্ধ), রবসন, কামিংস (ম্যাকলারেন), কিয়ান (সুহেল) ও দিমিত্রি।
মোহন বাগান -২ : ইউনাইটেড স্পোর্টস-০
(দিমিত্রি, কামিংস)