Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গুসকরায় ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে দু’লক্ষ ৯৫ হাজার প্রতারণা

গুসকরা শহরের এক স্বাস্থ্যকর্মী ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হলেন। অ্যাপ ডাউনলোড না করলে বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হবে, এমন হুমকি দিয়ে ওই স্বাস্থ্যকর্মীর ফোন হ্যাক করা হয়।

গুসকরায় ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে দু’লক্ষ ৯৫ হাজার প্রতারণা
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: গুসকরা শহরের এক স্বাস্থ্যকর্মী ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হলেন। অ্যাপ ডাউনলোড না করলে বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হবে, এমন হুমকি দিয়ে ওই স্বাস্থ্যকর্মীর ফোন হ্যাক করা হয়। তারপর মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তাঁর দু’টি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ওই স্বাস্থ্যকর্মী পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। 

Advertisement

গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমটি ল্যাবেরেটরি বিভাগের কর্মী জ্যোর্তিময় সামন্ত ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হয়েছিলেন গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে। তিনি গুসকরা শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংহতিপল্লির বাসিন্দা। গত ৩০ ডিসেম্বর গুসকরা পুলিশ ফাঁড়িতে তিনি লিখিত অভিযোগ জানান। তিনি অভিযোগে জানান, ওইদিন সকাল এগারোটা নাগাদ তিনি একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন পান। তাঁকে বলা হয়, ইউপিআই নম্বর থেকে আপনি বিদ্যুৎ বিল জমা করেন, সেই প্রক্রিয়া আপডেট করা নেই। আপনার বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হবে। 
জ্যোর্তিময়বাবু বলেন, এরপরেই ফোনের অপর প্রান্ত থেকে আমাকে বলা হয় হোয়াটসঅ্যাপে একটি ‘অ্যাপ’ পাঠানো হচ্ছে, সেটা ডাউনলোড করুন। না করলে বাড়িতে পুলিশ গিয়ে গ্রেপ্তার করবে। এরপরেই তিনি ওদের পাঠানো অ্যাপ ডাউনলোড করেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মোবাইলে কয়েকটি এসএমএস আসে। তাতেই তিনি জানতে পারেন, তাঁর দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দফায় দফায় ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমি ছাপোষা মানুষ। আমার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে থাকি। অতগুলো টাকা চলে গেল। আমার ফোনটা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারপর ফোন খুলতেই দেখি অ্যাকাউন্ট সাফ হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে রেখেছিল ওরা। 
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই স্বাস্থ্যকর্মীর অ্যাকাউন্টে ২৫ হাজার, ৫০ হাজার করে চার দফাতে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এখনও কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। জেলার সাইবার বিশেষজ্ঞ এক পুলিশ অফিসার জানান, ভারতীয় সংবিধানে ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কিছু হয় না। সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। এ ধরনের ফোন এলেই থানার দ্বারস্থ হতে হবে। আর এভাবে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত নয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ