সংবাদদাতা, রামপুরহাট: অবশেষে তারাপীঠে সতীর একান্ন পীঠের আদলে মন্দির গড়ে তোলার প্রস্তাবিত ৩১.৫৪ একর জায়গায় টিআরডিএ-কে দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়ার প্রস্তাব দিল জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। দিন কয়েক আগে প্রস্তাবের চিঠি হাতে পেয়েছে টিআরডিএ। তাই নিয়ে টিআরডিএ-র অন্দরে হইচই পড়ে গিয়েছে। কারণ, চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩১.৫৪ একর জায়গা তাঁরা টিআরডিএ-কে দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়া যেতে পারে। সেটা ৫১ সতীপীঠের প্রকল্প সম্পর্কিত জমি। তবে তার মধ্যে থাকা জেএল নম্বর ৬৬ এবং ৫০২ দাগের ১.৫৪ একর জমিটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন অনুসারে রামপুরহাট কোর্ট বিল্ডিং নির্মাণের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। টিআরডি-র পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শুধু একান্নটি মন্দির গড়লেই হবে না। হুবহু পরিবেশ করতে গেলে জায়গার প্রয়োজন। কোর্ট হলে প্রকল্পের জায়গা যেমন কমে আসবে, তেমনি প্রকল্পের পরিবেশের সঙ্গে সেটা মানানসই হবে না। ইতিমধ্যে বিষয়টি জেলাশাসককে জানিয়েছেন টিআরডিএ-র চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, অন্য কোথাও যাতে কোর্ট বিল্ডিং করা হয় সেটা জেলাশাসককে বলেছি। তিনি কোর্টের জন্য রামপুরহাটের মনসুবা মোড় সংলগ্ন জায়গা চিহ্নিত করেছেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু চিঠিতে সতীপীঠের জায়গার দাগ নম্বর উল্লেখ রয়েছে। তিনি দেখছেন বলে জানিয়েছেন।
২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তারাপীঠে সতীর ৫১টি পীঠস্থানের আদলে মন্দির ও বিগ্রহ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় টিআরডিএ। সেইমতো চিলাব্রিজ সংলগ্ন বনদপ্তরের ৩৬.৫১ একর জায়গা চিহ্নিত করা হয়।
দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে জায়গাটি জেলা কালেক্টরেকে হস্তান্তর করে বনদপ্তর। কিন্তু জায়গাটি তাদের নামে হস্তান্তর না হওয়ায় প্রকল্পের ডিপিআর করা যাচ্ছে না বলে জানায় টিআরডিএ। এরই এলাকায় ৪.৯৭ একর জায়গা নিয়ে পিএইচই সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট গড়ে তুলেছে। ফলে সতীপীঠের জায়গা কমে দাঁড়ায় ৩১.৫৪ একর। এরই মধ্যে সেই জায়গায় প্রবেশ পথে ফায়ার স্টেশন করার জন্য দেখে গেছে দমকল বিভাগ।
তারপরই রামপুরহাট আদালতকে ওই জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাপজোক শুরু করে ভূমিদপ্তর। কিন্তু যেভাবে একাধিক সরকারি দপ্তর গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, তাতে প্রকল্পের জায়গা কমে আসবে। এমত অবস্থায় জায়গাটি দ্রুত টিআরডিএ-কে হস্তান্তর করার আবেদন জানিয়ে জেলাশাসককে চিঠি দেয় টিআরডিএ।
যদিও সেই সময় জেলাশাসক জানিয়েছিলেন, জায়গাটি টিআরডিএকে দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হবে। দিন কয়েক আগে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের পক্ষ থেকে সেই লিজের প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু তার মধ্যে প্রায় দুই একর জায়গা কোর্ট বিল্ডিং নির্মাণের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তাতেই আপত্তি টিআরডিএর। কারণ, এতে প্রকল্পের জায়গা কমে আসবে।
জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক অসীম পাল বলেন, এটা জেলাশাসকের অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে। এখানে আমাদের কোনও ব্যাপার নেই। সবাইকেই তো জায়গা দিতে হবে।
অন্যদিকে জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, কোর্ট বিল্ডিংয়ের জন্য রামপুরহাট মনসুবা মোড়ে তারাপীঠ যাওয়ার তোরণের পাশের জায়গা দেখা হয়েছে।
কিন্তু লিজ প্রস্তাবের চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে সতীপীঠের ৫০২ দাগের জায়গা কোর্টের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে? উত্তরে জেলাশাসক বলেন, বিষয়টি জানি। ওটা দেখে নেব।