


কানপুর: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধ আবহে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় তুরস্ক। এর জেরে এরদোগানের দেশের বিরুদ্ধে কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। এই পরিস্থিতিতে এবার বিপুল টাকা বকেয়া রেখে পাততাড়ি গোটাল কানপুর মেট্রো প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত তুরস্কের একটি সংস্থা। জানা গিয়েছে, তুরস্কের ওই ঠিকাদারি সংস্থাটির নাম ‘গুলেরমাক’। অভিযোগ, ঠিকা-কর্মীদের বেতন বাবদ ৮০ কোটি টাকা বাকি রেখেই চলে গিয়েছে গুলেরমাক কর্তৃপক্ষ। এমনকী ১০ মাস ধরে ৫৩ জন ঠিকাদারের পাওনা পর্যন্ত মেটায়নি তুরস্কের ওই সংস্থা। বারবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন সংস্থার আধিকারিকরা। গুলেরমাকের এই কাণ্ডে মাথায় হাত পড়েছে কানপুর মেট্রো কর্তৃপক্ষের।
সূত্রের খবর, ভারতীয় সংস্থা স্যাম ইন্ডিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছিল গুলেরমাক। নিজের অধীনে থাকা আরও ৫৩টি সাবলেট ফার্মকে কাজের বরাত দিয়েছিল তুরস্কের ওই সংস্থা। অভিযোগ, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরেও মোটা অঙ্কের টাকা বাকি রেখে দিয়েছে গুলেরমাক। প্রথমে এবিষয়ে উত্তরপ্রদেশ মেট্রো রেল কর্পোরেশনের (ইউপিএমআরসি) আধিকারিকদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ঠিকারদাররা। অভিযোগ, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপরেই সোমবার জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ন’জন ঠিকাদার। তাঁদের দাবি, ভারত-পাক সংঘর্ষে তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই টাকা মেটানো নিয়ে ঢিলেমি শুরু করে গুলেরমাক। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, মেট্রো মার্বেল, রেডিয়েন্ট সার্ভিসেস সহ একাধিক সংস্থার টাকা অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়া হোক। বকেয়া বাবদ ৩ কোটি ৭০ লক্ষ পায় মেট্রো মার্বেল।
ইউপিএমআরসি-র যুগ্ম জনসংযোগ আধিকারিক পঞ্চানন মিশ্রের কথায়, ‘যৌথভাবে কানপুরের এক নম্বর করিডরের চারটি স্টেশনের কাজ সম্পন্ন করেছে গুলেরমাক। কাজ শেষ হওয়ার পর গুলেরমাককে পুরো টাকা মিটিয়ে দেয় মেট্রো কর্তৃপক্ষ। তবে চুক্তির মোট টাকার ৫ শতাংশ মেট্রোর কাছে জমা রয়েছে। এক বছর পর তা দেওয়ার কথা। ওই সংস্থা অধীনস্থ ঠিকাদারদের টাকা না মেটালে মেট্রোকেই তা দিতে হবে।’