


নিউ ইয়র্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘শুল্ক আক্রমণ’ থেকে রেহাই পেল না বিনোদন ক্ষেত্রও। বিদেশি পণ্যের উপর শুল্ক চাপিয়ে গোটা বিশ্বের বাণিজ্যক্ষেত্রকে অস্থির পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। চীনের সঙ্গে এই ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সংঘাতও তীব্র হয়েছে। এই আবহে ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, বিদেশে প্রযোজিত কোনও ছবি আমেরিকায় মুক্তি পেলে, তার উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, আমেরিকার সিনেমা জগৎ দিন দিন মন্দার দিকে এগচ্ছে। এই কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে ‘বাধ্য’ হয়েছেন তিনি। এর জেরে ভারতীয় সিনেমাও ধাক্কা খাবে বলে মনে করছেন প্রযোজক ও পরিচালকরা।
সোমবার (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথে ট্রাম্প বলেন, ‘চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং স্টুডিওগুলিকে আমেরিকা থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য অন্যান্য দেশ ক্রমাগত প্রলোভন দেখাচ্ছে। হলিউড এখন বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছে। আমেরিকার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে। বিভিন্ন দেশ একত্রে এই কাজ করছে। ফলে এটি আমেরিকার জাতীয় সুরক্ষার বিরুদ্ধে হুমকির সমান। আমি বাণিজ্য দপ্তরকে বলব, বিদেশে প্রযোজিত যে সমস্ত ছবি আমাদের দেশে আসছে, অবিলম্বে সেগুলির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হোক।’ আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের ভারতের সিনে ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। কারণ মার্কিন বাজারে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ব্যবসা রয়েছে ভারতীয় সিনেমার। এবার ১০০ শতাংশ শুল্ক বসালে মুনাফার হিসেব ওলট-পালট হয়ে যাবে। আকাশছোঁয়া দাম হবে টিকিটের। প্রেক্ষাগৃহে দর্শক সংখ্যাও কমবে। ভারতীয় প্রযোজক গিল্ডের সভাপতি শিবাশিস সরকার, পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী, পরিবেশক অক্ষয় রাঠি ট্রাম্পের এমন ঘোষণার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। তাঁরা জানান, ভারতীয় সিনেমার জন্য আমেরিকা একটি বড় বাজার। কারণ সেখানে প্রচুর প্রবাসী দর্শক রয়েছেন। ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হলে আমেরিকায় কেউ ভারতীয় সিনেমা দেখতে আগ্রহ দেখাবেন না। ব্যবসায়িক দিক থেকেও ক্ষতির মুখে পড়তে হবে ইন্ডাস্ট্রিকে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ‘হলিউডের জন্য আত্মঘাতী’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন বলিউড পরিচালক মহেশ ভাট। তিনি বলেন, ‘উনি বুঝতেও পারছেন না, এই সিদ্ধান্তে হলিউড আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ একই মত পরিচালক শেখর কাপুরেরও।