কাবুল: আফগানিস্তানে ফের মার্কিন সেনা ঘাঁটি তৈরির জন্য তালিবান সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এজন্য চীন সীমান্ত লাগোয়া বাগরাম বিমান ঘাঁটি ফেরত চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আমেরিকার এই প্রস্তাব খারিজ করে দিল আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। তালিবান সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের এক আধিকারিক সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাঁদের দেশে আর মার্কিন সেনাকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তবে আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখতে আফগানিস্তানের কোনও সমস্যা নেই। এব্যাপারে চীনও আপত্তি তুলেছে। বেজিং বলেছ, এধরনের চেষ্টা আঞ্চলিক সংঘাত উস্কে দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, বাগরামে নতুন করে বায়ুসেনা ঘাঁটি তৈরির জন্য তাঁরা চেষ্টা করছেন। আমেরিকা বিনামূল্যেই বাগরাম তালিবানকে দিয়ে এসেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘চীন যেখানে পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, সেখান থেকে বাগরাম মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত।’ তাই বাগরাম কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। কিন্তু তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাকির জালাল জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক স্বার্থের কথা মাথায় রেখে কাবুল আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী। কিন্তু কোনওমতেই তা মার্কিন সেনাঘাঁটি তৈরি করার বিনিময়ে নয়। আফগানিস্তানের কোথাও মার্কিন সেনার উপস্থিতি থাকবে না।
৯/১১ হামলার পর আফগানিস্তানে সেনা অভিযান চালায় আমেরিকা। পতন হয় তালিবান সরকারের। তারপর প্রায় দু’দশক আফগানিস্তানে অবস্থান করেছিল মার্কিন সেনা। সেই সময় কাবুলের কাছে অবস্থিত বাগরাম ছিল তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। বাগরামের কুখ্যাত কারাগারে বহু মানুষকে সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে বিনা বিচারে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে আমেরিকার বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ছাড়তেই ফের বাগরামের দখল নেয় তালিবান।